Skip to content

দুই ঈদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি I Eid namaz

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

Table of Contents

দুই ঈদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি ?

ঈদের দিনের রীতিনীতি ঈদুল আযহা শব্দের উৎপত্তি :

শাব্দিক অর্থে id-i aẓhā (ফার্সি শব্দ) এবং  eid-al-Adahah (আরবি শব্দ)  ‘ ত্যাগের উৎসব ‘

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে এটি  দ্বিতীয় উৎসব । আমাদের দেশে এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামেও পরিচিত। এই উৎসবকে ঈদুজ্জোহাও বলা হয়। ঈদুল আযহা মূলত আরবি বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ‘ত্যাগের উৎসব’। এই উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল ত্যাগ করা।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন :

فَصَلَِّ لِرَبَِّکَ وَ انۡحَرۡ

অর্থঃ কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় কর এবং কুরবানী কর ।

(সুরা আল কাউছার আয়াত : ২)

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন :

وَ لِکُلَِّ اُمََّۃٍ جَعَلۡنَا مَنۡسَکًا لَِّيَذۡکُرُوا اسۡمَ الَّٰلَِ عَلیٰ مَا رَزَقَهُمۡ مَِّنۡۢۡ بَهِيۡمَۃِ الۡاَنۡعَامِؕ فَا لِٰهُکُمۡ اِلٰهٌ
وََّاحِدٌ فَلَهٰٗۤ اَسۡلِمُوۡاؕ وَ بَشَِّرِ الۡمُخۡبِتِیۡنَ

অর্থঃ আমি প্রতিটি সম্প্রদায়ের জন্য (কুরবানীর) নিয়ম করে দিয়েছি। তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযক্ দেয়া হয়েছে সেগুলোর উপর তারা যেন আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে, (এই বিভিনড়ব নিয়ম-পদ্ধতির ম‚ল লক্ষ্য কিন্তু এক- আল্লাহর নির্দেশ পালন), কারণ তোমাদের উপাস্য একমাত্র উপাস্য, কাজেই তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ কর আর সুসংবাদ দাও সেই বিনীতদেরকে ।

(সুরা আল হজ্জ আয়াত : ৩৪)

হাদিসের বর্ণনায় :

মুসা ইবনে ইসমাঈল (রহঃ) … আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত,  তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ্বীনায় পৌঁছে দেখতে পান যে, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন (নায়মূক ও মেহেরজান) খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করেন, এই দুইটি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহেলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুইটি উত্তম দিন দান করেছেন এবং তা হল: কোরবানীর ঈদ এবং রোযার ঈদ।

(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিস : ১৫৫৯, ই ফা বা, মিশকাত সহিহ হাদিস : ১৪৩৯, তিরমিজী)

নামাজের অধ্যায়ের সূচিপত্র / Table of Contents of Prayers …………..

কুরবানীর জন্য কোন ধরনের পশু উত্তম :

ইয়াহ্ইয়া ইবন মু’ঈন (রহঃ) ….. আবু সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ শিং বিশিষ্ট মোটা তাজা দুম্বা কুরবানী করতেন, যার চোখ, মুখ ও পা কালো রং মিশ্রিত হতো।

(আবু দাঊদ সহীহ হাদিস: ২৭৮৭)

ঈদুল আজহার সলাতের পূর্বে কুরবানি না করা :

উসমান (রহঃ) … বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আজহার দিন সলাতের পর আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দান করেন। খুতবায় বলেনঃ যে আমাদের মত সলাত / নামাজ আদায় করল এবং আমাদের মত কুরবানী করল, সে কুরবানীর রীতিনীতি যথাযথ পালন করল। আর যে সলাতের আগে কুরবানী করল তা সলাতের আগে হয়ে গেল, কিন্তু এতে তার কুরবানী হবে না। বারাআ এর মামা আবু বুরদাহ্ ইবনু নিয়ার (রাঃ) তখন বললেন, ইয়া রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার জানামতে আজকের দিনটি পানাহারের দিন। তাই আমি পছন্দ করলাম যে, আমার ঘরে সর্বপ্রথম যবেহ করা হোক আমার বকরীই। তাই আমি আমার বকরীটি যবেহ করেছি এবং সলাতে আসার প‚র্বে তা দিয়ে নাশতাও করেছি। রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমার বকরীটি মাংসের উদ্দেশ্যে যবেহ করা হয়েছে। তখন তিনি আরয করলেন, ইয়া রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাদের কাছে এমন একটি ছয় মাসের মেষ শাবক আছে যা আমার কাছে দু’টি বকরীর চাইতেও পছন্দীয়। এটি (কুরবানী দিলে) কি আমার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না ।

( বুখারী সহীহ হাদিস ঃ ৯০৬, ৯০৭ ই ফা বা/ ৯৫৪, ৯৫৫ আন্তঃ )

কুরবানীর ঈদের গোশত তিন দিনের বেশি রাখা:

আবু বকর ইবনু আবু শাইবাহ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র (রহঃ) ….. বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কবর যিয়ারাত হতে তোমাদের বারণ করেছিলাম, এখন তোমরা যিয়ারাত করতে পার। আর আমি তোমাদের তিনদিনের বেশি কুরবানীর মাংস খেতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা নিজেদের প্রয়োজন অনুপাতে জমা করে রাখতে পার। আমি আরো তোমাদের নিষেধ করেছিলাম চর্ম দ্বারা নির্মিত পাত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল পাত্রে তৈরি নবীয (খেজুর ভেজানো পানি) পান করতে, এখন তোমরা যে কোন পাত্র থেকেই পান করতে পারো। তবে যা কিছু নেশা সৃষ্টি করে তা পান করো না।

(মুসলিম সহীহ হাদিস : ৫০০৮ হাদিস একাডেমী/১৯৭৭ আন্তঃ/৪৯৫২ ই ফা বা )

জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন চুল ও নখ বা চামড়ার কোন অংশ কর্তন না করা :

ইবনু আবু উমার আল-মাক্কী (রহঃ) … উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছু কর্তন না করে।

সুফিয়ান (রহঃ) কে বলা হলো, কেউ কেউ তো হাদীসটিকে মারফু’ সরাসরি রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করে না। তিনি বললেন, আমি কিন্তু মারফু’-ই রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই বর্ণনা করি।

(মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ৪৯৫৫, ৪৯৫৬, ৪৯৫৭, ৪৯৫৮, ৪৯৫৯,৪৯৬০ ই ফা বা /৫০১১, ৫০১২,৫০১৩, ৫০১৪, ৫০১৫, ৫০১৬ হাদিস একাডেমী / ১৯৭৭ আন্তঃ)

ঈদুল আজহা মোট কয় দিন :

ঈদুল আজহা মোট তিন দিন। সে হিসেবে কোরবানিও তিন দিন করা যায়। জিলহজ
মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সুর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানির সময়। তবে সম্ভব হলে জিলহজের ১০ তারিখেই (বা প্রথম দিনে) কোরবানি করা উত্তম ।

(মুয়াত্তা মালেক : ১৮৮; বাদায়িউস সানায়ি : ৪/১৯৮, ২৩ ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫/২৯৫)

উভয় ঈদের নামাজের রাক’আতের সংখ্যা :

ইমরান ইবনু মুসা (রহঃ) … উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার সলাত দু’রাকআত, ঈদুল ফিতরের সলাত দু’রাকআত, মুসাফিরের সলাত দু’রাকআত এবং জুমুআর সলাত দু’রাকআতই পরিপুর্ণ, অস¤পুর্ন নয়, রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষ্য মতে ।

( আন-নাসাঈ সহীহ হাদিস : ১৫৬৯ ই ফা বা )

কুরবানীর (ঈদুল আজহা) ঈদের দিনের প্রথম কাজ :

ঈদের দিনের পোশাক :

আবুল ইয়ামান (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বাজারে বিক্রি হচ্ছিল এমন একটি রেশমী জুব্বা নিয়ে উমর (রাঃ) রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি এটি কিনে নিন। ঈদের সময় এবং প্রতিনিধি দলের সংগে সাক্ষাতকালে এটি দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করবেন। তথন রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ এটি তো তার পোষাক, যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নেই। এ ঘটনার পর উমর (রাঃ) আল্লাহর যত দিন ইচ্ছা ততদিন অতিবহিত করলেন।

তারপর রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট একটি রেশমী জুব্বা পাঠালেন, উমর (রাঃ) তা গ্রহন করেন এবং সেটি নিয়ে রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি তো বলেছিলেন, এটা তার পোষাক যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নাই। অথচ আপনি এ জ্ব্বুা আমার নিকট পাঠিয়েছেন। তখন রসুলুল­াহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ তুমি এটি বিক্রি করে দাও এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থে তোমার প্রয়োজন মিটাও।

(বুখারী সহীহ হাদিস : ৯০১ ই ফা বা / ৯৪৮ আন্তঃ)

দুই ঈদের দিনে নতুন কাপড় পড়তে হবে এমন কোন সহীহ হাদিস নেই , নতুন কাপড় পড়া সুন্নাত এমনটিও নয় , বরং তার সাধ্যমত ঘরে যে পোশাক থাকবে তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সাজসজ্জা করা ।

মহান আল­াহ্ তায়ালা বলেন :

یٰبَنِیۡۤ اٰدَمَ خُذُوۡا زِیۡنَتَکُمۡ عِنۡدَ کُلِّ مَسۡجِدٍ وَّ کُلُوۡا وَ اشۡرَبُوۡا وَ لَا تُسۡرِفُوۡا ۚ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ

অর্থ :  হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না ।

(সুরা আল আ’রাফ আয়াত : ৩১)

টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করা :

ক । ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সে ব্যাক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে অহংকারের সাথে তার (পরিধেয়) পোশাক টেনে চলে ।

(বুখারী সহীহ হাদিস : ৫৩৬৭ ই ফা বা / ৫৭৮৩ আন্তঃ)

খ । আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার অন্তরে অনু পরিমান অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যাক্তি জিজ্ঞেস করল, মানুষ চায় যে, তার পোশাক সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক, এও কি অহংকার? রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আল্লাহ সুন্দর, তিনি সুন্দরকে ভালবাসেন। অহমিকা হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায় অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা ।

(মুসলিম সহীহ হাদিস : ১৬৭ ই ফা বা / ৯১ আন্তঃ)

ঈদের দিনে সকালের খাবার :

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিন :

ক । মুহাম্মদ ইবনু আবদুর রাহীম (রহঃ) … আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন কিছু খেজুর না খেয়ে বের হতেন না। অপর এক রিওয়াতে আনাস (রাঃ) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তা বেজোড় সংখ্যক খেতেন ।

( বুখারী সহীহ হাদিস : ৯০৫ ই ফা বা/ ৯৫৩ আন্তঃ )

খ । ঈদুল আজহার দিন না খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নাত। তাছাড়া ঈদুল আজহার সলাত শেষে কুরবানীর মাংস দিয়ে খাবার গ্রহণ করা সুন্নাত। উল্লেখ্য যে,  যার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব শুধু তার জন্যই প্রযোজ্য ।

( বুখারী সহীহ হাদিস : ৯০৬, ৯০৭ ই ফা বা/ ৯৫৪, ৯৫৫ আন্তঃ )

ঈদের সলাতের সময় :

ঈদের সলাত সকাল সকাল অর্থাৎ ইশরাকের সময় (সূর্য যখন কিছু উপরে ওঠে) ।

( আবু দাঊদ সহীহ হাদিসঃ ১১৩৫, বুখারী অনুচ্ছেদঃ ৬১১ )

ঈদের মাঠ থেকে ফিরার সময় ভিন্ন পথে আসাঃ

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন বাড়ি ফেরার সময় ভিন্ন পথে আসতেন ………. ।

( বুখারী হাদিসঃ ৯৩৪, আবু দাঊদঃ ১১৫৬ )

কুরবানীর ঈদের দিনে সলাত আদায় করা প্রসঙ্গেঃ

বারা’আ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে খুতবা বা ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন আমাদের আজকের এ দিনে প্রথম কাজ সলাত এবং ফিরে এসে কুরবানী করা ।

( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ৯০৩, ৯১৪, ৯৫১ )

ঈদের সলাতে আযান ও ইকামাহঃ

ঈদের সালাতে আযান ও ইকামাহ হয় না । ইবনে আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজে আযান ও ইকামাহ ব্যতীত আদায় করেন এবং হযরত আবু বক্কর (রাঃ), হযরত উমার (রাঃ), এবং হযরত উছমান (রাঃ)ও তদ্রূফ করেন ।

(আবু দাঊদ সহীহ হাদিসঃ ১১৪৭, ১১৪৮, মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ১৯২২, ১৯২৩, ১৯২৪, তিরমিজী হাদিসঃ ৫৩২, তিরমিজী হাদিসঃ ৫৩২, আন নাসাঈঃ ১৫৬৫)

ঈদের নামাজে তাকবীরের সংখ্যাঃ

কুতায়বা (র)…. আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত – তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাজে (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজ্হা) প্রথম রাকাতে সাত এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচবার তাকবীর বলতেন (রুকুর দুই তাকবীর ছাড়া) ।

(আবু দাঊদ হাদিসঃ ১১৪৯, ১১৫০, ১১৫১ )

প্রথমে রাকআতে সাতটি তাকবীর বলে কিরাআত পাঠ করা এবং দ্বিতীয় রাকাতে ধণ্ডয়মান হয়ে চারবার তাকবীর বলে কিরাআত শুরু করতেন এবং পরে রুকুতে যেতেন ।

( আবু দাঊদ হাদিসঃ ১১৫২ )

আবু মুসা আল-আশআরী (রাঃ)-কে এবং হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রাঃ)- বলেন , তিনি নবী (সাঃ)জানাযার নামাজে চার তাকবীর আদায় করতেন (অর্থাৎ তিনি জানাযার নামাযের অনুরূপ ঈদের নামাযের প্রতি রাকাতে চারটি তাকবীর বলতেন এবং তা  তাহ্‌রীমা ও রুকুর তাকবীর সহ ……………..।

(আবু দাঊদ হাদিসঃ ১১৫৩ { হাদিস হাসান })

উভয় ঈদের নামাজে সূরা পাঠঃ

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত- তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়ছি (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে কোন স‚রা পাঠ করতেন? তিনি বলেন, সুরা “ক্বাফ” ও সুরা “ক্বামার” পাঠ করতেন আবার কখনও সুরা “আল-আ‘লা” ও স‚রা আল গাশিয়াহ পাঠ করতেন ।

(আবু দাঊদ সহীহ হাদিসঃ ১১৫৪ , আন-নাসাঈ সহীহঃ ১৫৭১ )

ঈদের দিন সলাতের পর খুতবাঃ

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর এবং উমর (রা) এর সঙ্গে সালাতে হাজির ছিলাম । তারা সবাই খুতবার আগে সলাত আদায় করতেন ।

( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ৯১১, ৯১২, ৯১৩ )

খুতবা শুনার জন্য বসাঃ

আব্দুল্লাহ ইবনুস-সায়েব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন , আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ঈদের নামব্জ আদায় করি। নামাব্জ শেষে তিনি বলেন – আমি এখন খুতবা দেব। যে শুনতে চায় , সে যেন বসে থাকে এবং যে চলে যেতে চায় সে যেতে পারে ।

( আবু দাউদ সহীহ হাদিসঃ ১১৫৫, আন-নাসাঈ সহীহঃ ১৫৭৪ )

খুৎবা দেওয়ার সময় নীরব থাকাঃ

মুহাম্মাদ ইবনু সালামা এবং হারিছ ইবনু মিসকীন (রহঃ) … আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি যদি ইমামের খ‚ৎবা দেয়াকালীন তোমার সাথীকে বল, “নিরব থাক” তা হলে তুমি একটি অনর্থক কাজ করবে।

( আন-নাসাঈ সহীহঃ ১৫৮০)

খুৎবার মাঝখানে বসা এবং তাতে নীরব থাকাঃ

কুতায়বা (রহঃ) … জাবির ইবনু সামুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম যে, তিনি দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছেন। অতঃপর ক্ষণিকের তরে নীরব হয়ে বসলেন। পুনরায় দাঁড়ালেন ও দ্বিতীয় খুৎবা দিলেন। অতএব, যে ব্যক্তি তোমাকে সংবাদ দেয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে খুৎবা দিয়েছে। তুমি তাকে সত্যবাদী মনে করবে না ।

( আন-নাসাঈ হাসানঃ ১৫৮৬)

ঈদের দিন বৃষ্টি হলে মসজিদে নামাজ আদায়ঃ

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

( আবু দাঊদ যঈফ হাদিসঃ ১১৬০ )

ঈদগাহে নারীদের গমনঃ

উম্মু আতিয়া (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সাবালিকা মেয়েদেরকে, ঋতুমতীদেরকে ও পর্দানশীলদেরকে ইদে যাওয়ার জন্য বের করতে। তবে ঋতুমতী মহিলারা সলাতে অংশ গ্রহন করা থেকে বিরত থাকবে। তারা কল্যান কর্ম ও মুসলিমদের দোয়াতে অংশগ্রহন করবে। আমি বললাম ইয়া রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আমাদের কারো ওড়না না থাকলে সে কি করবে? তিনি বললেন , তার বোন তাকে ওড়না পরিধান করাতে সাহায্য করবে ।

(মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ১৯২৭, ১৯২৮, ১৯২৯, বুখারি সহীহ হাদিসঃ ৯২৩, ৯২৪, ৯২৮ )

ঈদের দিন মহিলাগণের প্রতি ইমামের উপদেশ দেওয়াঃ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত – রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করলেন, পরে খুৎবা দিলেন। খুৎবা শেষে নেমে মহিলাগণের নিকট আসলেন এবং তাদের নসিহত করলেন …………… ।

(বুখারী হাদিসঃ ৯২৭)

ঈদগাহে ঋতুমতী মহিলাগণের পৃথক অবস্থানঃ

উম্মে আতিয়া (রা) থেকে বর্ণিত -তিনি বলেন আমাদেরকে ঈদের দিন বের হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাই আমরা ঋতুমতী, যুবতী এবং তাঁবুতে অবস্থানকারিনী মহিলাগণ কে নিয়ে বের হতাম। ইবনে আওন (র)- এর বর্ননায় রয়েছে তাঁবুতে অবস্থানরত যুবতী মহিলাগণকে নিয়ে বের হতাম। অতঃপর ঋতুমতী মহিলাগণ মুসলমানদের জামাআতে এবং দোয়ায় অংশগ্রহণ করতেন। তবে ঈদগাহে পৃথকভাবে অবস্থান করতেন।

(বুখারী হাদিসঃ ৯২৯)

ঈদ জামা’আতে পায়ে হেটে বা সওয়ারীতে আরোহণ করে যাওয়াঃ

ঈদ গাহে যাওয়া এবং আসার সময় দুটি রাস্তা ব্যবহার করা অর্থাৎ এক রাস্তা দিয়ে যাবে এবং অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরবে ।

(বুখারি সহীহ হাদিসঃ ৯৩৪ )

কেউ যদি ঈদের সলাত না পায় সে দু’রাকা’আত সলাত আদায় করবেঃ

মহিলা এবং যারা বাড়ী ও পল্লীতে অবস্থান করে তারাও এরূপ করবে। কেননা, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মুসলিমগণ! এ হলো আমাদের ঈদ। আর আনাস ইবন মালিক (রাঃ) যাবিয়া নামক স্থানে তার আযাদকৃত গোলাম ইবন আবু উতবাকে এ আদেশ করেছিলেন। তাই তিনি তার পরিবারবর্গ ও সন্তান সন্ততিদের নিয়ে শহরের অধিবাসীদের ন্যায় তাকবীরসহ সালাত আদায় করেন এবং ইকরিমা (রহঃ) বলেছেন, গ্রামের অধিবাসীরা ঈদের দিন সমবেত হয়ে ইমামের ন্যায় দু’রাকা’য়াত সালাত আদায় করবে। আতা (রহঃ) বলেন, যখন কারো ঈদের সালাত ছুটে যায় তখন সে দু’রাকা’আত সালাত আদায় করবে।

(বুখারী হাদিসঃ ৯৩৫)

ঈদের সলাতের পূর্বে ও পরে সলাত আদায় না করাঃ

ঈদের সালাতের আগে ও পরে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন নফল নামায পড়েননি ……।

( মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ১৯৩০, বুখারী সহীহ হাদিসঃ ৯৩৬, আবু দাঊদ সহীহ হাদিসঃ ১১৫৯, আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ ১৫৯০)

যে ঈদের সলাতে উপস্থিত থেকেছে, সে যেন জুমু’আর সলাত আদায় না করেঃ

ইয়াস ইবনু আব‚ রমলা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মু’আবিয়া (রাঃ)-কে যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)-কে প্রশ্ন করতে শুনেছি, আপনি কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ঈদ এবং জুম‚আর সালাতে শরীক ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ; তিনি ঈদের সালাত দিনের শুরুতে আদায় করে ফেলেছিলেন। অতঃপর (গ্রামের অধিবাসীদেরকে) জুমুআর সালাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।

(আন-নাসাঈ সহীহঃ ১৫৯৪, ১৫৯৫)

ঈদের জামা’আতে এবং হারাম শরীফে অস্ত্রবহণ নিষিদ্ধঃ

সায়ীদ ইবনু আস এর পিতা থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) এর নিকট হাজ্জাজ এলো। আমি তখন তার কাছে ছিলাম। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলো, তিনি কেমন আছেন? ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, ভাল। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলো, আপনাকে কে আঘাত করেছে? তিনি বললেন, আমাকে সে ব্যাক্তি আঘাত করেছে যে সে দিন অস্ত্র ধারণের আদেশ দিয়েছে, যে দিন তা ধারণ করা বৈধ নয়। অর্থাৎ হাজ্জাজ ।

(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ৯১৬ ই ফা বা / ৯৬৭ আন্তঃ)

ঈদের দিনে বাদ্য যন্ত্র বাজিয়ে উৎসব এবং খেলাধুলাঃ

দফ বাজানোঃ

আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিদায় হাজ্জে) মিনায় অবস্থানকালে আবূ বকর তাঁর নিকট গেলেন। সে সময় আনসারদের দু’জন বালিকা সেখানে গান গাচ্ছিল ও দফ্ বাজাচ্ছিল। অন্য বর্ণনায় আছে, তারা বু’আস যুদ্ধে আনসার গোত্রের লোকেরা যে সব গান গেয়ে গর্ব করেছিল সে সব গান আবৃত্তি করছিল। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর মুড়ে নিজেকে ঢেকে রেখেছিলেন। এ অবস্থা দেখে আবূ বকর বালিকা দু’টিকে ধমক দিলেন। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় হতে মুখ খুলে বললেন, হে আবূ বকর ওদেরকে ছেড়ে দাও। এটা ঈদের দিন। অন্য বর্ণনায় আছে, হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতির একটা ঈদের দিন আছে। আর এটা হলো আমাদের ঈদের দিন।

( মিশকাত হাদিস : ১৪৩২, বুখারী ৯৮৭, ৩৫২৯, মুসলিম ৮৯২, নাসায়ী ১৫৯৩, ইবনু হিব্বান ৫৮৭৬)

হারূন ইবনু সাঈদ আল আয়লী (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আবূ বকর (রাযিঃ) আইয়্যামে তাশরীকের দিনে আয়িশাহ (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে দেখেন যে, তার কাছে দুটি বালিকা গান করছে এবং দফ বাজাচ্ছে। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর দিয়ে মাথা ঢাকা অবস্থায় ছিলেন। আবূ বকর (রাযিঃ) এটা দেখে বালিকাদ্বয়কে খুব শাসলেন বা ধমক দিলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বলেন, হে আবূ বকর! এদেরকে ছেড়ে দাও। এ দিনগুলো হ’ল ঈদের দিন। আয়িশাহ (রাযিঃ) আরও বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে তার চাদর দ্বারা ঢেকে দিচ্ছেন, যখন আমি আবিসিনিয়ার যুবকদের (কৃষ্ণাঙ্গ) খেলার দৃশ্য অবলোকন করছিলাম। তখন আমি সবেমাত্র বালিকা। অতএব তোমরা অল্পবয়স্কা বালিকাদের সখের মূল্যায়ন কর। অল্পবয়স্ক বালিকারা অনেকক্ষণ আমোদ-ফুর্তিতে মেতে থাকে।

(মুসলিম সহীহ হাদিস: ১৯৪৮ হাদিস একাডেমী / ৮৯২ আন্তঃ )

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ….. উভয়ে হিশাম (রহঃ) একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে- দু’টি বালিকা দফ বাজিয়ে খেলা করছিল।

(মুসলিম সহীহ হাদিস: ১৯৪৭ হাদিস একাডেমী / ৮৯২ আন্তঃ )

কবিতা আবৃত্তিঃ

উবাইদ ইবনু ইসমায়ীল (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন আমার ঘরে) আবূ বকর (রাঃ) এলেন তখন আমার নিকট আনসার দু’টি মেয়ে বু’আস যুদ্ধের দিন আনসারীগণ পরস্পর যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে কবিতা আবৃত্তি করছিল। তিনি বলেন, তারা কোন পেশাগত গায়িকা ছিল না। আবূ বকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে শয়তানী বাদ্যযন্ত্র। আর এটি ছিল ঈদের দিন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বকর! প্রত্যেক জাতির জন্যই আনন্দ উৎসব রয়েছে আর এ হল আমাদের আনন্দ।

(বুখারী সহীহ হাদিস: ৯৫২ ই ফা বা )

গান বাজনা :

আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাযিঃ) আমার নিকট আসলেন। এ সময় আমার কাছে আনসার সম্প্রদায়ের দু’টি মেয়ে গান গাচ্ছিল। আনসারগণ বু’আস যুদ্ধের সময় এ গানটি গেয়েছিল। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তারা অবশ্য (পেশাগত) গায়িকা ছিল না। আবূ বকর (রাযিঃ) বললেন, একি? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ বকর প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসবের ব্যবস্থা আছে। আর এটা হচ্ছে আমাদের উৎসবের দিন।

(মুসলিম সহীহ হাদিস: ১৯৪৬ হাদিস একাডেমী / ৮৯২ আন্তঃ )

খেলাধুলা:

আয়িশা (রাঃ) আরো বলেছেন, হাবশীরাা যখন মসজিদে (এর প্রাঙ্গনে) খেলাধুলা করছিল, তখন আমি তাদের দেখছিলাম এবং আমি দেখছি, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে রেখেছেন। উমর (রাঃ) হাবশীদের ধমক দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওদের ধমক দিও না। হে বণু আরফিদা! তোমরা যা করছিলে তা নিশ্চিন্তে কর।

(বুখারী সহীহ হাদিস: ৯০২, ৯০৪, ৯৩৫, আন-নাসাঈ সহীহ: ১৫৯৬, ১৫৯৭, ১৬০০)

আবূত তহির (রহঃ) ….. আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখলাম, তিনি আমার হুজরার দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন আর কৃষ্ণাঙ্গ যুবকেরা তাদের অস্ত্র দ্বারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে নবাবীতে তাদের যুদ্ধের কলাকৌশল দেখাচ্ছে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তার চাদর দ্বারা আড়াল করে দিচ্ছেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলেন, যতক্ষণ আমি নিজে ফিরে না আসি। অতএব অল্পবয়স্কা বালিকাদের খেল-তামাশার প্রতি যে লোভ রয়েছে তার মূল্যায়ন কর (তার সখ পূর্ণ কর)।

(মুসলিম সহীহ হাদিস: ১৯৪৯, ১৯৫০ হাদিস একাডেমী / ৮৯২ আন্তঃ )

নবীজি (সা.)-এর সময়ে দফের ব্যবহার- গবেষক মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মুমিন দফ-সংক্রান্ত হাদিসগুলো একত্র করে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তুলে ধরেছেন। যার কয়েকটি উদাহরন হলো:

১. প্রাপ্ত বয়স্ক কোনো নারী বা পুরুষ নিজেরা গান করেননি এবং বাদ্যযন্ত্র (দফ) বাজাননি।
২. গান করেছে বালিকা, কিশোরী ও দাসিরা। অন্যরা শুধু শুনেছে।
৩. দফের অনুমতি দেওয়া হয়েছে শুধু বিয়ে ও ঈদের দিনে।
৪. যারা গান করেছিল এবং দফ বাজিয়েছিল তারা পেশাদার গায়িকা ছিল না।
৫. দফ ছাড়া অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্রের কথা হাদিসে ইতিবাচকভাবে আসেনি।

 

নামাজের অধ্যায়ের সূচিপত্র / Table of Contents of Prayers …………..

Leave a Reply