Skip to content

ঈমান কাকে বলে ? ঈমানের শাখা কয়টি ? What is faith | faith

ঈমান কী ? ঈমান একটি আরবী শব্দ। এর সাধারণ অর্থ হলো— বিশ্বাস করা। এছাড়াও আনুগত্য করা, অবনত হওয়া, নির্ভর করা ইত্যাদি অর্থেও ঈমান শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বিশ্বাস বা ধর্মবিশ্বাস বোঝাতে পবিত্র কোরআনে ও হাদিসে ইমান শব্দটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর বিশ্বাসী বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে মুমিন শব্দটি। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার উপর সবচে’ বড় ফরজ হল, ঈমান। ঈমান বান্দার উপর আল্লাহর সবচে’ বড় হক। ঈমানের পরিচয় হল, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, ইসলামকে একমাত্র সত্যধর্ম মেনে কবুল করে নেওয়া। ইসলাম আকায়েদ ও আহকামের সমষ্টি।

মহান আল্লাহতায়ালা বলেন -

অর্থঃ “অতএব জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা চাও তোমার ও মুমিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। ”
সুরা মুহাম্মাদ আয়াতঃ ১৯

আল্লহতায়ালা আরেকটি আয়াতের বলেন -

অর্থঃ “এ কারণে তুমি আহবান কর এবং দৃঢ় থাক যেমন তুমি আদিষ্ট হয়েছ। আর তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না এবং বল, ‘আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের রব এবং তোমাদের রব। আমাদের কর্ম আমাদের এবং তোমাদের কর্ম তোমাদের; আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোন বিবাদ-বিসম্বাদ নেই; আল্লাহ আমাদেরকে একত্র করবেন এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই কাছে’। ”
সুরা আশ-শূরা আয়াতঃ১৫

আল্লহতায়ালা আরেকটি আয়াতের বলেন -

অর্থঃ “বল, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়, আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি, আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই। ”
সুরা ইখলাস আয়াতঃ ১-৪

আল্লহতায়ালা আরেকটি আয়াতের বলেন -

অর্থঃ ” আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, আর ফেরেশতা ও জ্ঞানীগণও। তিনি ন্যায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ”
সুরা আল-ইমরান আয়াতঃ ১৮

মহান আল্লাহতায়ালা আরেকটি আয়াতের ইমানের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোকপাত করেন -

অর্থঃ ” ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং ভালো কাজ হল যে ঈমান আনে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ প্রদান করে তার প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণকে, ইয়াতীম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে এবং বন্দিমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, যারা ধৈর্যধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় ও যুদ্ধের সময়ে। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী।”
সুরা বাকারা আয়াতঃ ১৭৭

ঈমান মূলত ছয়টি শাখার উপর প্রতিষ্ঠিত -

ইসলামের বর্ণিত সঠিক আকায়েদ, ইসলামের প্রদত্ত শরীয়ত মেনে নেওয়ার নাম ঈমান। আকায়েদ মানা, ইসলামী শরীয়ত অস্বীকার করা অথবা শরীয়ত মানা, ইসলামী আকায়েদ অস্বীকার করা উভয়ই কুফর। এ কুফর থাকা অবস্থায় ইসলামের দৃষ্টিতে কাউকে মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। ঈমান মূলত ছয়টি বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর সেগুলো হলো- ১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখা। ২. ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস রাখা। ৩. আসমানী কিতাব এর প্রতি। ৪. নবী-রসুল গণের প্রতি। ৫. শেষ দিবস ও পুনরুত্থান এবং ৬. ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপণ করা। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে একবার হজরত জিবরাইল (আঃ) মানুষের বেশে রসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে এসে জিজ্ঞাসা করলেন ’ঈমান কি?’ তিনি বললেনঃ ’ঈমান হল, আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি, (কিয়ামতের দিন) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাঁর রসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি।
বুখারী সহীহ হাদীসঃ ৪৮ ইফাবা, ৫০ আন্তঃ

ঈমানের বিষয়ে হাদিসের আরও অন্যান্য বর্ণনায়:

১। ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশি।

আবদুল্লাহ ইবনু জু’ফী (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ঈমানের শাখা রয়েছে ষাটের কিছু বেশি। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।
বুখারী সহীহ হাদিস: ৮ ইফাবা , ৯ আন্তঃ

২। প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।

আদম ইবনু ইয়াস (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে এবং প্রকৃত মুহাজির সে-ই, যে আল্লাহ্ তা’আলার নিষিদ্ধ কাজ ত্যাগ করে।
বুখারী সহীহ হাদিস: ৯ ইফাবা , ১০ আন্তঃ

৩। খাবার খাওয়ানো ঈমানের অংশ ।

অমর ইবনু খালিদ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যাক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করল, ইসলামের কোন কাজটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাবার খাওয়াবে ও পরিচিত অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে।
বুখারী সহীহ হাদিস: ১১ ইফাবা , ১২ আন্তঃ

৪। নিজের জন্য যা পছন্দনীয়, ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করা ঈমানের অংশ ।

মূসা’দ্দাদ (রহঃ) ও হুসাইন আল মু’আল্লিম (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।
বুখারী সহীহ হাদিস: ১২ ইফাবা , ১৩ আন্তঃ

৫। রসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ ।

আবূল ইয়ামান (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ সেই পবিত্র সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা ও সন্তানের চেয়ে বেশি প্রিয় হই।
বুখারী সহীহ হাদিস: ১৩ ইফাবা , ১৪ আন্তঃ

৬। ঈমানের স্বাদ পাওয়া।

মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে থাকে, সে ঈমানের স্বাদ পায়। ১। আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর থেকে প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে খালিস আল্লাহ্‌র জন্যই মুহব্বত করা; ৩। কুফ্‌রীতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করা।
বুখারী সহীহ হাদিস: ১৫ ইফাবা , ১৬ আন্তঃ

৭। ফিতনা থেকে পলায়ন দ্বীনের বা ঈমানের অংশ।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা (রহঃ) … আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সেদিন দূরে নয়, যেদিন মুসলিমের উত্তম সম্পদ হবে কয়েকটি বকরী, যা নিয়ে সে পাহাড়ের চুড়ায় অথবা বৃষ্টিপাতের স্থানে চলে যাবে। ফিতনা থেকে বাঁচতে সে তার দ্বীন নিয়ে পালিয়ে যাবে।
বুখারী সহীহ হাদিস: ১৮ ইফাবা , ১৯ আন্তঃ

৮ । আমলের দিক থেকে ঈমানদারদের শ্রেষ্ঠত্বের স্তর ।

ইসমা’ঈল (রহঃ) … আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতীগণ জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। পরে আল্লাহ্ তা’আলা (ফিরিশতাদের) বলবেন, যার অন্তরে একটি সরিষা পরিমানও ঈমান রয়েছে, তাকে দোযখ থেকে বের করে নিয়ে আস। তারপর তাদের দোযখ থেকে বের করা হবে এমন অবস্থায় যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। এরপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের [বর্ণনাকারী মালিক (রহঃ) শব্দ দু’টির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন] নদীতে ফেলা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর পাশে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাওনা সেগুলো কেমন হলুদ রঙের হয় ও ঘন হয়ে গজায়? উহাইব (রহঃ) বলেন, ’আমর (রহঃ) আমাদের কাছে حيا এর স্থলে حياة এবং خردل من ايمان এর স্থলেخردل من خير বর্ণনা করেছেন।
বুখারী সহীহ হাদিস: ২১ ইফাবা, ২২ আন্তঃ

৯ । যদি যুদ্ধের মাঠে কোন কাফের আল্লহর প্রতি তওবা করে ঈমান আনে তাহলে তাকে ছেড়ে দাও । সুরা তাওবা ( ৯:৫ )

একজন মুমিন-মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবাদ সম্পদ ইমান। কারণ, ইমানহীন আমল বা কাজ মূল্যহীন বা নিষ্ফল। ইমানের বিপরীত হলো কুফর বা শিরক। ইমানের স্তর ও পরিচয় নিয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। ভালো ও নেক কাজে ইমান বাড়ে এবং পাপ ও খারাপ কাজে ইমান কমে। সে কারণে প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের প্রধান দায়িত্ব হলো ইমানের প্রতি যত্নবান হওয়া।
বুখারি সহিহ হাদিসঃ ২৪ ইফাবা, ২৫ আন্তঃ

মহান আল্লহতায়ালা পবিত্র আল-কোরআনে বলেনঃ

অর্থঃ যে ঈমান আনার পর কুফরী করবে, অবশ্যই তার আমল বরবাদ হবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
(সুরা মায়িদা আয়াত: ৫)
আল্লহতায়ালা যেন আমাদের প্রতিটি মুসলিমকে দ্বীনই কাজের সহিত যেন ঈমান ও আমলের সহিত মৃত্যুবরণ করার তাওফিক দান করেন এবং উক্ত হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করেন আমিন ।

Update Running .......

Leave a Reply