Skip to content

নামাজের সকল অধ্যায় I All Chapters of Namaz

নামাজের সকল অধ্যায় I All Chapters of Namaz

কৃতজ্ঞতা – আসসালামু আলাইকুম, আলহামদুলিল্লাহ সমস্ত প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি আমাকে এই দীনি উত্তম কাজ করার তৌফিক দান করেছেন। অসংখ্য দুরুদ ও সালাম নাযিল হোক প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) এর উপর। শান্তি বর্ষিত হোক রাসূল (সা:) এর – পরিবারবর্গ, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ , তাবে তাবেঈ গণ ও নেককার মুমিন বান্দাদের উপর।
পবিত্রতা (আরবি: طهارة, তাহারাত) হল ইসলামের একটি অত্যাবশ্যক অংশ। এটি নাজাসাতের বিপরীত, যা হল ধর্মীয়ভাবে অপবিত্র হওয়ার অবস্থা। এটি প্রাথমিকভাবে শারীরিক অপবিত্রতা (যেমন, মূত্র) দূরীকরণের মাধ্যমে আর তারপর অজু বা গোসলের দ্বারা ধর্মীয় পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে অর্জিত হয়। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবী পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।’ (সুরা- আহজাব, আয়াত: ৩৩) মহান আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান।’ (সুরা- মায়িদা, আয়াত: ৬)। বিস্তারিত জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন –
সালাত বান্দা ও তার প্রতিপালকের মধ্যে সম্পর্ক গড়ার মাধ্যম: মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আর সাজদাহ কর ও (আমার) নিকটবর্তী হও।”(সূরা আল-‘আলাক, আয়াত: ১৯) দেখুন সালাতই হচ্ছে আপনার ও আল্লাহর মাঝে সম্পর্ক গড়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। অতএব, আপনি যদি চান তবে আল্লাহর উদ্দেশ্যে (সালাতের মাধ্যমে) বেশি-বেশি সাজদাহ ও রুকুর মাধ্যমে এ সম্পর্ক বৃদ্ধি করুন। এ জন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে বেশি-বেশি দো‘আ করার ওসীয়ত করেছেন।
ইসলামে মসজিদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যান্য ধর্মের উপাসনাগৃহগুলোর মত মসজিদ নিছকই কোনো উপাসনাগৃহ নয়। তাত্ত্বিক এবং ব্যাবহারিক ও ঐতিহাসিকভাবে তা এর থেকে ভিন্ন কিছু, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য-সমৃদ্ধ। মসজিদ ব্যক্তি মুসলমানের উপাসনার পবিত্র স্থান। কিন্তু মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে মসজিদ গুরুত্বপূর্ণ নানা সামাজিক ভূমিকাও পালন করেছে। আলোচ্য প্রবন্ধে মসজিদের আদব ও মসজিদ বিষয়ে আমাদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন –
নামাজ ইসলামের প্রধান ইবাদত। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের ওপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের দ্বিতীয় এটি। ঈমানের পর মানুষের প্রতি প্রথম নির্দেশনাও নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সময়ও নির্ধারিত। এক নজরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় তুলে ধরা হলো-
আযান বা আজান (আরবি: أَذَان আযান্‌) হচ্ছে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য ইসলামি আহ্বান বা ডাকধ্বনি। ইক্বামাহ্‌ (আরবি: إقامة) বা ইকামত হলো সামান্য পরিবর্তিত, বিশেষ যিকরের মাধ্যমে নামাজ দাঁড়িয়েছে বলে ঘোষণা দেয়া।
প্রতিটি নামাজেই বাহিরে এবং ভিতরে মিলিয়ে ১৬ টি ফরজ রয়েছে, এছাড়াও ওয়াজিব এবং সুন্নত রয়েছে। এগুলো বিস্তারিত নিন্মে আলোচনা করা হলো।
আসসালামু আলাইকুম, সম্পূর্ণ নামাজই আল্লাহর প্রশংসা।সালাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভ। তাই নামাজের প্রত্যেক রুকনে দোয়া, তাসবিহ, তাহলিলের মধ্যে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে চায়। এ সব দোয়া ও জিকির কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বাহ, আবূ কুরায়ব ও আহমাদ ইবনু সিনান (রহঃ) ….. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাযিঃ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবূ বকর ও আবূ কুরায়ব তাদের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াররাদ বলেছেনঃ মুগীরাহ দু’আটি আমাকে শিখিয়েছেন। অতঃপর তা আমি মু’আবিয়াকে লিখে পাঠিয়েছি। (সহিহ মুসলিম হাদিস : ১২২৬ হাদিস একা: /৫৯৩ আন্তঃ/ ১২১৫ ইফা বা )
আসসালামু আলাইকুম, রাত্রির বিশেষ নফল ছালাত তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ নামে পরিচিত। রমযানে এশার পর প্রথম রাতে পড়লে তাকে ‘তারাবীহ’ এবং রমযান ও অন্যান্য সময়ে শেষরাতে পড়লে তাকে ‘তাহাজ্জুদ’ বলা হয়। উল্লেখ্য যে, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, ক্বিয়ামে রামাযান, ক্বিয়ামুল লায়েল সবকিছুকে এক কথায় ‘ছালাতুল লায়েল’ বা ‘রাত্রির নফল ছালাত’ বলা হয়। তারাবীহ : মূল শব্দ رَاحَةٌ (রা-হাতুন) অর্থ : প্রশান্তি। অন্যতম ধাতু رَوْحٌ (রাওহুন) অর্থ : সন্ধ্যারাতে কোন কাজ করা। সেখান থেকে ترويحة (তারবীহাতুন) অর্থ : সন্ধ্যারাতের প্রশান্তি বা প্রশান্তির বৈঠক; যা রামাযান মাসে তারাবীহর ছালাতে প্রতি চার রাক‘আত শেষে করা হয়ে থাকে। বহুবচনে (التراويح) ‘তারা-বীহ’ অর্থ : প্রশান্তির বৈঠকসমূহ (আল-মুনজিদ) তাহাজ্জুদ : মূল শব্দ هُجُوْدٌ (হুজূদুন) অর্থ : রাতে ঘুমানো বা ঘুম থেকে উঠা। সেখান থেকে تَهَجُّدٌ (তাহাজ্জুদুন) পারিভাষিক অর্থে রাত্রিতে ঘুম থেকে জেগে ওঠা বা রাত্রি জেগে ছালাত আদায় করা (আল-মুনজিদ)।
নফল নামাজ: নফল ইবাদত হলো ইসলামে এমন কিছু কাজ যা ফরজ বা ওয়াজিবের মতো বাধ্যতামূলক নয়, তবে সেগুলো করলে পাপ না হয়ে বরং সওয়াব বা নেকী অর্জন হয়। ফরজ নামাজের পাশাপাশি, মুসলমানরা নফল নামাজও পড়তে পারে। নফল নামাজের অনেক রকম রয়েছে, যেমন সুন্নাত নামাজ, নফল তাহাজ্জুদ নামাজ, এবং ওয়াক্তিয়া নামাজ। আল্লাহকে স্মরণ করা: মুসলমানরা বিভিন্নভাবে আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে, যেমন জিকির,তাসবিহ, এবং দোয়া পড়া।
আস্সালামু আলাইকুম, পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হয় ইসরা’ ও মি’রাজের রাত্রে। ঠিক তার পরের দিন যোহরের সময় জিবরীল (আঃ) প্রিয় নবী (ﷺ)-কে নিয়ে জামাআত সহকারে প্রথম নামায পড়েন। অনুরুপভাবে মুসলিমরাও মহানবী (ﷺ)-এর পশ্চাতে দাঁড়িয়ে তাঁর অনুসরণ করেন। আর জিবরীলের ইমামতির পর মহানবী (ﷺ) মক্কা মুকার্রামায় কোন কোন সাহাবীকে নিয়ে কখনো কখনো জামাআত সহকারে নামায আদায় করেছেন। কিন্তু মদ্বীনায় হিজরত করার পর জামাআত একটি বাঞ্জিত নিয়ম ও ইসলামী প্রতীকরুপে গুরুত্ব পেল। আর সকল নামাযীকে জামাআতবদ্ধ ও জমায়েত করার জন্য বিধিবদ্ধ হল আযান।
সুন্নাত নামাযসমূহের মাঝে সবচেয়ে পরিচিত সুন্নাত নামাযসমূহ হলো ঐসব নামায যেগুলো ফরয নামাযের আগে ও পরে পড়া হয়। এগুলোকে সালাতে রাগেবাও বলা হয়। ক. ফজরের ফরযের পূর্বের দুই রাকআত নামায। খ. যোহরের ফরযের পূর্বের চার রাকআত নামায এবং ফরযের পরের দুই রাকআত। গ. মাগরিবের ফরযের পরের দুই রাকআত। ঘ. ইশার ফরযের পরের দুই রাকআত। যদিও, সুন্নাত নামাযের সংখ্যা এই দৈনিক সুন্নাত নামাযসমূহের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলোর বাইরেও অনেক সুন্নাত নামায রয়েছে।
বিতর শব্দের অর্থ- বিজোড়। ইশার নামাজের পর এক থেকে সাত রাকআত পর্যন্ত বিজোড় সংখ্যক রাকআত বিতর নামাজ আদায় করা। বিতর নামাজ বা বিতর সলাত হল বিজোড় সংখ্যক রাকআত বিশিষ্ট নামাজ যেটি মুসলিমরা রাতে ইশার নামাজের পর থেকে ফজরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো সময় বিতর নামাজ পড়া যায়।
জুমুআ(جُمُعَة ) শব্দটি আরবী, এর অর্থ একত্রিত হওয়া, সম্মিলিত হওয়া, কাতারবদ্ধ হওয়া। যেহেতু, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্ক মুমিন-মুসলমান একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই স্থানে একত্রিত হয়ে জামায়াতের সাথে সে দিনের জোহরের নামাজের পরিবর্তে এই নামাজ ফরযরূপে আদায় করে, সে জন্য এই নামাজকে “জুমার নামাজ” বলা হয়।
সফরের সলাত মূলত কোনো ব্যক্তি তার অবস্থানস্থল থেকে ৪৮ মাইল তথা ৭৮ কিলোমিটার দূরে সফরের নিয়তে বের হয়ে নিজ শহর বা গ্রাম পেরিয়ে গেলেই শরিয়তের দৃষ্টিতে সে মুসাফির হয়ে যায়। (জাওয়াহিরুল ফিকহ: ১/৪৩৬) মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ দুই রাকাত (কসর) পড়বেন। এই সংক্ষেপে আল্লাহপ্রদত্ত কল্যাণ রয়েছে। কোরআনে বলা হয়েছে— ‘তোমরা যখন জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের জন্য নামাজের কসর করায় কোনো আপত্তি নেই। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০১)
কেউ যথাসময়ে নামায পড়তে ঘুমিয়ে অথবা ভুলে গেলে এবং তার নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে, পরে যখনই তার চেতন হবে অথবা মনে পড়বে তখনই ঐ (ফরয) নামায কাযা পড়া জরুরী। প্রিয় নবী (ﷺ) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন নামায পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে তার কাফফারা হল স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেওয়া।” অন্য এক বর্ণনায় বলেন, “এ ছাড়া তার আর কোন কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নেই।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত )
মুসলমানদের ঈদ দুটি: একটি হলো রমজানের পর ঈদুল ফিতর । অপরটি হলো আরাফা দিবসের পর ঈদুল আযহা। জাহিলীযুগের উৎসব-পার্বন ও নব আবিষ্কৃত উৎসব-পার্বনের জায়গায় আল্লাহ তাআলা এ দুই ঈদ বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। আনাস ইবনে মালিক রাযি. বলেন, জাহিলীযুগে বছরে দুটি দিবস ছিল যেখানে তারা খেল-তামাশা করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় এলেন, তিনি বললেন, «তোমাদের দুটি দিবস ছিল, যাতে তোমরা খেলতে। আল্লাহ তাআলা ওই দুটি পরিবর্তন করে তোমাদের জন্য উত্তম দিবস দিয়েছেন: ঈদুল ফিতর দিবস ও ঈদুল আযহা দিবস।»(বর্ণনায় নাসায়ী)
জানাযা একটি বিশেষ প্রার্থনা যা কোনো মৃত মুসলমানকে কবর দেয়ার পূর্বে সংগঠিত হয়। সচরাচর এটি জানাযার নামাজ নামে অভিহিত হয়। মুসলমান অর্থাৎ ইসলাম ধর্মামলম্বীদের জন্য এটি ফরযে কেফায়া বা সমাজের জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব অর্থাৎ কোনো মুসলমানের মৃত্যু হলে মুসলমান সমাজের পক্ষ থেকে অবশ্যই জানাযার নামাজ পাঠ করতে হবে। তবে কোনো এলাকা বা গোত্রের পক্ষ থেকে একজন আদায় করলে সকলের পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায়।
মহিলাদের নামাজ – আমাদের সমাজে পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সালাত আদায়ে পার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু মহানবী (সঃ) কখনও বলে যাননি যে, পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে সালাত আদায়ে পার্থক্য আছে। তাঁর সময় নারী-পুরুষ একসাথে জামায়াতে নামায আদায়ের বহু হাদিস রয়েছে।

Leave a Reply