Skip to content

হজ্জ পালনের ধারাবাহিক নিয়ম | Hajj

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

Table of Contents

হজ্জ পালনের ৫ দিনের ধারাবাহিক নিয়ম

৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত চলবে হজের কার্যক্রম ও আনুষ্ঠানিকতা। হজের ৫ দিনের করণীয় গুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হলোঃ

হজ্জ কি ?

হজ্জ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলোঃ ইচ্ছে করা, ঘোরাফেরা করা, সংকল্প করা, পর্যবেক্ষণ করা ইত্যাদি।

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরআন ও হাদিসের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাবা ঘর এবং নির্দিষ্ট স্থান সমূহে তাওয়াফ ও জিয়ারত করাকে হজ্জ বলে। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো হজ্জ।এটি এমন ইবাদত যেখানে আর্থিক ও শারীরিক উভয়েই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

হজ্জ পালন করা ফরজঃ

মহান আল্লহতায়ালা বলেনঃ​

فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ ۖ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا ۗ وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ


অর্থঃ এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইব্রাহীম। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহ্ উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জ করা তার অবশ্যকর্তব্য। আর কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।

(সূরা আল-ইমরান আয়াতঃ ৯৭)
মহান আল্লাহ্তায়ালা অন্য আরেকটি আয়াতে বলেনঃ
আর হজ ও উমরা আল্লাহর জন্য পূর্ণ কর। অতঃপর যদি তোমরা আটকে পড় তবে যে পশু সহজ হবে (তা যবেহ কর)। আর তোমরা তোমাদের মাথা মুন্ডন করো না, যতক্ষণ না পশু তার যথাস্থানে পৌঁছে। আর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে তবে সিয়াম কিংবা সদাকা অথবা পশু যবেহ এর মাধ্যমে ফিদয়া দেবে। আর যখন তোমরা নিরাপদ হবে তখন যে ব্যক্তি উমরার পর হজ সম্পাদনপূর্বক তামাত্তু করবে, তবে যে পশু সহজ হবে, তা যবেহ করবে। কিন্তু যে তা পাবে না তাকে হজে তিন দিন এবং যখন তোমরা ফিরে যাবে, তখন সাত দিন সিয়াম পালন করবে। এই হল পূর্ণ দশ। এই বিধান তার জন্য, যার পরিবার মাসজিদুল হারামের অধিবাসী নয়। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ আযাবদানে কঠোর।
হাদিসের বর্ণনায়ঃ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ হে জনগণ! তোমাদের উপর হাজ্জ (হজ্জ) ফরয করা হয়েছে। অতএব তোমরা হাজ্জ (হজ্জ) কর। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তা কি প্রতি বছর? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন এবং সে তিনবার কথাটি বলল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি হ্যাঁ বললে তা অবধারিত হয়ে যাবে (প্রতি বছরের জন্য) অথচ তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমরা আমাকে ততইকু কথার উপর থাকতে দাও যতটুকু আমি তোমাদের জন্য বলি। কারণ তোমাদের পুর্বেকার লোকেরা তাদের অধিক প্রশ্নের কারণে এবং তাদের নবীদের সাথে বিরোধীতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অতএব আমি তোমাদের যখন কোন কিছু করার নির্দেশ দেই- তোমরা তা যথাসাধ্য পালন কর এবং যখন তোমাদের কোন কিছু করতে নিষেধ করি তখন তা পরিত্যাগ কর।

(মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ৩১২৭ ইফাবা)
হজ্জ

যে ব্যক্তি সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পূর্বেই আরাফায় আসতে সক্ষম হবে সে হজ পেলঃ

আদুর রহমান ইবনে ইয়ামুর আদ-দীলী বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, হজ হচ্ছে আরাফাত। তিনি এ কথা তিনবার বললেন। তারপর বললেন, যে ব্যক্তি সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পূর্বেই আরাফায় আসতে সক্ষম হবে সে হজ পেল। আর মিনা হচ্ছে তিন দিন। সুতরাং যদি কেউ দুইদিনে তাড়াতাড়ি করলো তার কোন পাপ নেই এবং যে ব্যক্তি বিলম্ব করলো তারও কোনো পাপ নেই।
( আবু-দাউদ সহীহ হাদিসঃ ১৯৪৯ তাহকীককৃত, তিরমিজী সহীহ হাদিসঃ ৮৮৯ তাহকীককৃত, ইবনে মাজাহ সহীহ হাদিসঃ ৩০১৫ )

হজের ধারাবাহিক কাজ গুলো আগে পিছে করার বৈধতাঃ

আলী ইবনু ইসমা’ঈল (রহঃ) … ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে মিনাতে কুরবানীর দিন জিজ্ঞাসা করা হত, তখন তিনি বলতেনঃ কোন দোষ নেই। তাঁকে এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করে বললেন, আমি যবেহ (কুরবানী) করার আগেই মাথা কামিয়ে ফেলেছি। তিনি বললেনঃ যবেহ করে নাও, এতে দোষ নেই। সাহাবী আরো বললেন, আমি সন্ধ্যার পর কংকর মেরেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ কোন দোষ নেই।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬২৬ ইফাবা, ১৭৩৫ আন্তঃ)
হজ্জের ফরজ ৩টিঃ

১। ইহরাম বাধা

২। উকুফে আরাফা (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান)

৩। তাওয়াফুয্ যিয়ারাত

হজ্জের ওয়াজিব ৬টিঃ

১ । সাফা ও মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা।

২ । অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যদয় পর্যন্ত একমুহুর্তের জন্য হলেও অবস্থান করা।

৩ । মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিক্ষেপ করা।

৪ । হজ্জে তামাত্তু ও কি্রান কারীগণ ‘হজ্জ’ সমাপনের জন্য দমে শোকর করা(হাদি {পশু} জবাই)।

৫ । এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।

৬ । মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদায় অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা।

এছাড়া আর যে সমস্ত আমল রয়েছে সব সুন্নাত

৮ জিলহজ্জ তারিখের ধারাবাহিক কাজঃ
হজ্জের নিয়ত করে ইহরাম বাঁধা ( ৮ জিলহজ ) ?

মক্কার হারাম শরিফ বা বাসা-হোটেল বা ইহরামের নির্দিষ্ট স্থান থেকে থেকে হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া এবং জোহরের সলাতের পূর্বেই মিনায় পৌঁছা। এখন অবশ্য ৭ তারিখে রাত থেকেই হাজিদের মিনায় নেওয়ার কাজ শুরু হয়।

ক । নিজ বাসস্থান থেকে ইহরাম বেঁধে হজ্জের নিয়ত করে সূর্যোদয়ের পর মিনায় রওয়ানা হবেন।

খ । সেখানে যুহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের সালাত আদায় করবেন।

মিনায় অবস্থান ৮ জিলহজঃ

মিনায় ৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব এবং সেখানে অবস্থান করা সুন্নত।
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ’আবদুল ’আযীয ইবনু রুফাইয়’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তাঁর কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ যুহর ও আসরের সলাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা থেকে ফিরার দিন ’আসরের সলাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাসসাবে। এরপর আনাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর।

( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৫০ ইফাবা, ১৬৫৩ আন্তঃ )
হজ্জ

৯ জিলহজ্জ তারিখের ধারাবাহিক কাজঃ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান ( ৯ জিলহজ্জ ) ?

৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে পালিত হবে পবিত্র হজ। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আরাফাই হজ’। তাই ৯ জিলহজ ফজরের পর সম্ভব হলে মিনায় গোসল করে নেওয়া অথবা অজু করে সকাল সকাল আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। ৯ জিলহজ জোহরের আগেই হজের অন্যতম রোকন পালনে আরাফাতের ময়দানে গিয়ে উপস্থিত হওয়া এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করা। আর এটাই হলো হজের অন্যতম রোকন।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৫৫ ইফাবা, ১৬৫৮ আন্তঃ)

১ । আরাফার দিন রোজা পালন না করাঃ

আলী ইবনু ’আবদুল্লাহ (রহঃ) … উম্মু ফাযল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরাফার দিনে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওম/রোযা এর ব্যাপারে লোকজন সন্দেহ করতে লাগলেন। তাই আমি রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শরবত পাঠিয়ে দিলাম। তিনি তা পান করলেন।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৫৫ ইফাবা, ১৬৫৮ আন্তঃ)

২ । সন্দেহজনক কাজের বিধানঃ

সন্দেহজনক কাজের ব্যাখ্যা। হযরত হাসসান ইবন আবু সিনান (রঃ) বলেন, আমি পরহেযগারী থেকে বেশী সহজ কাজ দেখতে পাইনি। (তা হলো) যা তোমার কাছে সন্দেহযুক্ত মনে হয়, তা পরিত্যাগ করে সন্দেহমুক্ত কাজ করো। মুহাম্মাদ ইবনু কাছীর (রহঃ) … উকবা ইবনু হারিছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একজন কালো মেয়েলোক এসে দাবী করল যে, সে তাদের উভয় (উকবা ও তার স্ত্রী)-কে দুধপান করিয়েছে। তিনি এ কথা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বর্ননা করলে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং মুচকি হেসে বললেন, কিভাবে? অথচ এমনটি বলা হয়ে গেছে। তার স্ত্রী ছিলেন আবূ ইহাব তামীমীর কন্যা।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৯২৪ ইফাবা, ২০৫২ আন্তঃ)

৩ । মিনা থেকে আরাফা যাওয়ার সময় তালবিয়া ও তাকবীর বলাঃ

হজ্জ

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ আশ-শামী (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর সাকাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা থেকে ’আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থেকে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তাঁরা পড়ত, তাতে বাধা দেওয়া হতো না এবং যারা তাকবীর পড়তে চাইত তাঁরা তাকবীর পড়ত, এতেও বাধা দেয়া হতো না।


তালবিয়াঃ
لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণঃ লাব্বাইকা আল্ল-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্‌নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্‌ক, লা শারিকা লাক।
অর্থঃ আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং সকল রাজত্ব আপনার। আপনার কোনো শরিক নেই।


তাকবীরঃ
ا لله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
অর্থঃ আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান৷ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহ মহান৷ আল্লহ মহান এবং সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য৷

(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৫৬ ইফাবা, ১৬৫৯ আন্তঃ, মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ২৯৬৮ ইফাবা)

৪ । আরাফার ময়দানে অবস্থান কালে দোয়াঃ

আরাফার দিনের অনেক দোয়া রয়েছে, তার মাঝে উল্লেখ যোগ্য দোয়াটি, এই দোয়ার বিশেষ গুরুত্বের কথা বর্ণিত হয়েছে হাদিসে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আরাফাতের দিনের দোয়াই শ্রেষ্ঠ দোয়া। দোয়া-জিকির হিসেবে সর্বোত্তম হলো ওই দোয়া, যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ করেছেন। তা হলোঃ


لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বদির।


অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তারই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান।

(তিরমিজি হাসান হাদিসঃ ৩৫৮৫ তাহকিককৃত / মিশকাত হাসান হাদিসঃ২৫৯৮ )

৫ । খুতবা শোনাঃ

আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে হজের খুতবা শোনা এবং নিজ নিজ তাবুতে জোহর ও আসরের নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আলাদাভাবে আদায় করা। তওবা-ইসতেগফার, তাকবির, তাসবিহ-তাহলিল ও মোনাজাতে কান্নাকাটিতে আত্মনিয়োগ করা।বিশেষ করে হজের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তা বুঝে নিয়ে জীবনের বাকি সময় এ নসিহতের আলোকে জীবন গড়ার দীপ্ত শপথ নেওয়া।
(আবু দাউদ সহীহ হাদীসঃ ১৯১৪, ১৯১৫ ইফাবা)

৬ । আরাফা থেকে ফিরার পথে চলার গতি:

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … ’উরওয়া (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উসামা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, তখন আমিও সেখানে বসা ছিলাম, বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) সময় রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ’আরাফা থেকে ফিরতেন তখন তাঁর চলার গতি কি ছিল? তিনি বললেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তাঁর চাইতেও দ্রুতগতিতে চলতেন। রাবী হিশাম (রহঃ) বলেন, عَنَقَ থেকেও দ্রুতগতির ভ্রমণকে نَصَّ বলা হয়। আবূ ’আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, فَجْوَةٌ অর্থ مُتَّسَعٌ খোলা পথ, এর বহুবচন হল فَجَوَاتٌ ও فِجَاءٌرَكْوَةٌ ও رِكَاءٌ‏ শব্দদ্বয়ও অনুরূপ। (কুরআনে বর্ণিত) ولات حين مناص এর অর্থ হল, পরিত্রাণের কোন উপায়-অবকাশ নেই।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬২ ইফাবা, ১৬৬৬ আন্তঃ)

৯ - ১০ জিলহজ মুজদালিফায় অবস্থানঃ

আরাফাতের ময়দান থেকে দিনের বেলায় রওয়ানা দিয়ে গিরিপথ দিয়ে মুজদালিফায় এসে একত্রে দুই ওয়াক্তের সলাত আদায় করা ।
মুজদালিফায় সারারাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা। মুজদালিফায় সুবহে সাদিক পর্যন্ত থাকা সুন্নত। সুবহে-সাদিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত যেকোনো এক মুহূর্ত মুজদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব।


আরাফাতের ময়দান ছেড়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার অতিক্রম করার পর মুজদালিফা। তারপর ওয়াদিয়ে মুহাসসার এর পরে মিনা। ওয়াদিয়ে মুহাসসার (হস্তিবাহিনীর ধ্বংসের স্থান) ব্যতীত পুরো মুজদালিফা এলাকায় অবস্থান করা যায়।


মুজদালিফায় অবস্থান প্রসঙ্গে , মহান আল্লাহ তায়ালা আল-কোরআনে উল্লেখ করে বলেন –

 ‘তোমাদের উপর তোমাদের পালন কর্তার অনেশন করায় কোন পাপ নেয়। যখন তোমরা আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করো তাওয়াফের জন্য , তখন মাশ আর-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ করো (মুজদালিফায়)তেমনি করে তোমাদিককে হেদায়েত করা হয়েছে ,নিশ্বচয় তোমরা তো ইতোপূর্বে অজ্ঞ ছিলে।


(সুরা আল- বাকারা আয়াত: ১৯৮ )

১ । আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করাঃ

কুতাইবা (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরাফা থেকে সওয়ারীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুজদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌঁছলে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটটি বসালেন। এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাঁকে উযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হাল্কাভাবে ওযু করে নিলেন। আমি বললাম, ইয়া রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সলাত? তিনি বললেনঃ সলাত তোমার আরো সামনে। এ কথা বলে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফা আসলেন এবং সলাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে আরোহণ করলেন।


কুরাইব (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) ফযল (রাঃ) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামারায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন।

(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬৫ ইফাবা, ১৬৬৯-১৬৭০ আন্তঃ)

২ । আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় ধীরে চলার নির্দেশ দিতেনঃ

সাইদ ইবনু আবূ মারায়াম (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আরাফার দিনে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ফিরে আসছিলেন। তখন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিছনের দিকে খুব হাঁকডাক ও উট পিটানোর শব্দ শুনতে পেয়ে তাঁদের চাবুক দিয়ে ইশারা করে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা ধীরস্থীরতা অবলম্বন কর। কেননা, উট দ্রুত হাঁকানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই। হাদীসে উল্লেখিতإِيضَاعِ এর প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী (রহঃ) কুরআনে উদ্ধৃত কয়েকটি শব্দের মর্মার্থ দেন (কুরআনে উদ্ধৃত)أَوْضَعُوا তাঁরা দ্রুত চলত। خِلاَلَكُمْ তোমাদের ফাঁকে ঢুকে فَجَّرْنَا خِلاَلَهُمَا উভয়টির মধ্যে প্রবাহিত করেছি।
( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬৬ ইফাবা, ১৬৭১ আন্তঃ )

৩ । মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার নামায একত্রে পড়াঃ

হজ্জ

– মুসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) মুযদালিফার মাগরিব ও ইশার সলাত এক সাথে আদায় করতেন। এ ছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং ওযু করতেন কিন্তু সলাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছে সলাত আদায় করতেন।


– মুহাম্মদ ইবন কাসীর …. আব্দুল্লাহ ইব্ন মালিক (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমরের সাথে (মুযদালিফায়) মাগরীবের নামাজ তিন রাক’আত এবং ইশার নামাজ দুই রাক’আত আদায় করেছি। তখন মালিক ইবনে হারিস (র) তাকে জিজ্ঞাসা করে , এ কিরূপ নামাজ? জবাবে তিনি বলেন এ নামাজদ্বয়কে এ স্থানে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংঙ্গে একই একামতের সাথে আদায় করেছি।

( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬৪,১৫৬৮ ইফাবা, ১৬৬৮,১৬৭৩ আন্তঃ ) , (আবু দাউদ সহীহ হাদিসঃ ১৯২৭ ইফাবা)

৪ । দুই ওয়াক্ত সলাত একসাথে আদায় করা এবং এর মাঝে কোন নফল সলাত আদায় না করাঃ

আদম (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করেন। প্রত্যেকটির জন্য আলাদা ইকামত দেওয়া হয়। তবে উভয়ের মধ্যে বা পরে তিনি কোন নফল সলাত আদায় করেননি।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬৮ ইফাবা, ১৬৭৩ আন্তঃ)

৫ । মাগরিব এবং ইশা উভয় সলাতের জন্য আযান ও ইকামাত দেওয়াঃ

আমর ইবনু খলিদ (রহঃ) … আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) হজ্জ আদায় করলেন। তখন ইশার আযানের সময় বা তার কাছাকাছি সময় আমরা মুযদালিফা পৌঁছালাম। তিনি এক ব্যাক্তিকে আদেশ দিলেন। সে আযান দিল এবং ইকামত বলল। তিনি মাগরিব আদায় করলেন এবং এরপর আরো দুই রাকআত আদায় করলেন। তারপর তিনি রাতের খাবার আনালেন এবং তা খেয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) তারপর তিনি একজনকে আদেশ দিলেন। আমার মনে হয়, লোকটি আযান দিল এবং ইকামত বলল।


আমর (রহঃ) বলেন, আমার বিশ্বাস এ সন্দেহ যুবাইর (রহঃ) থেকেই হয়েছে। তারপর তিনি দুই রাকআত ইশার সলাত আদায় করলেন। ফজর হওয়া মাত্রই তিনি বললেনঃ এ সময়, এ দিনে, এ স্থানে, এ সলাত ব্যতীত রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোন সলাত আদায় করেননি। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এ দুটি সলাত তাঁদের প্রচলিত ওয়াক্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই লোকেরা মুযদালিফা পৌঁছার পর মাগরিব আদায় করেন এবং ফজরের সময় হওয়া মাত্র ফজরের সলাত আদায় করেন। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এইরূপ করতে দেখেছি।

(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৭০ ইফাবা, ১৬৭৫ আন্তঃ)

৬ । মুযদালিফায় ফজরের সলাত কোন সময় আদায় করবেঃ

আমর ইবনু হাফস ইবনু গিয়াস (রহঃ) … আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুটি সলাত ছাড়া কোন সলাত তার নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন এবং ফজরের সলাত তার (নিয়মিত) ওয়াক্তের আগে আদায় করেছেন।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৭৭ ইফাবা, ১৬৮২ আন্তঃ)

৭ । মুযদালিফা হতে কখন রওয়ানা হবেঃ

হাজ্জজ ইবনে মিনহাল (র) ….. আমার ইবনে মায়মুন (র) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন আমি উমর (রা) এর সাথে ছিলাম। তিনি মুয্দালিফাতে ফজরের সলাত আদায় করে (মাশারে হারামে) উকুফ করলেন এবং তিনি বললেন। মুশরিকরা সূর্য না উঠা পর্যন্ত রওনা করতেন না। তারা বলতো হে সাবির আলোকিত হও। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিপরীত করলেন এবং তিনি সূর্য উঠার পুর্বেই রওনা করলেন।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৭৯ ইফাবা, ১৬৮৪ আন্তঃ)

৮ । যারা পরিবারের দুর্বল লোক তাদেরকে মুযদালিফা থেকে রাতেই পাঠিয়ে দিয়ে মিনায় জামরাতে কংকর মাড়াতেনঃ

আবূ নু’আইম (রহঃ) … আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মুযদালিফায় অবতরন করলাম। মানুষের ভীড়ের আগেই রওয়ানা হওয়ার জন্য সাওদা (রাঃ) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইলেন। আর তিনি ছিলেন ধীরগতি মহিলা। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিলেন। তাই তিনি লোকের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হলেন। আর আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানেই থেকে গেলাম। এরপর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রওয়ানা হলেন, আমরা তাঁর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। সাওদার মত আমিও যদি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিতাম তাহলে তা আমার জন্য যে কোন খুশির কারন থেকে অধিক সন্তুষ্টির ব্যাপার হতো।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৭১,১৫৭৬ ইফাবা, ১৬৭৬,১৬৮১ আন্তঃ)

১০ জিলহজ্জ তারিখের ধারাবাহিক কাজঃ

জামরায়ে কংকর নিক্ষেপঃ

১০ জিলহজ সকালে মুজদালিফা থেকে মিনায় এসে বড় জামরাতে ৭টি কংকর নিক্ষেপ করা। আর তা জোহরের আগেই সম্পন্ন করা। কংকর নিক্ষেপের স্থানগুলোতে বাংলায় দেওয়া দিক-নির্দেশনা মনোযোগ সহকারে শুনে তা আদায় করা।

১ । তালবিয়া পাঠ করেছেন অনবরত জামরায়ে আকাবাতে কঙ্কর না মারা পর্যন্তঃ

কুরবানীর দিন সকালে জামরায়ে আকাবাতে কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর ও তালবিয়া বলা এবং চলার পথে কাউকে সওয়ারীতে পেছনে বসানো যুহাইর ইবনু হারব (রহঃ) … ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাওয়ারীর পেছনে উসামা (রাঃ) বসা ছিলেন। এরপর মুযদালিফা থেকে মিনার পথে তিনি ফাযলকে সাওয়ারীর পিছনে বসালেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাঁরা উভয়ই বলেছেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরায়ে আকাবাতে কঙ্কর না মারা পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৮১ ইফাবা, ১৬৮৬-১৬৮৭ আন্তঃ)

২ । ১০ই যিলহজ্জ ঈদের দিন এর ধারাবাহিক কাজঃ

ক। বড় জামরায় ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ করবেন।
খ। তারপর কুরবানী করবেন।
গ। তারপর চুল কাটাবেন এবং ইহরামের কাপড় বদলিয়ে সাধারণ পোষাক পরে ফেলবেন।
ঘ। {মক্কায়} তাওয়াফে ইফাদা করবেন। এদিন না পারলে এটি ১১ বা ১২ তারিখেও করতে পারবেন এবং তৎসঙ্গে সাঈও করবেন।


কুরবানীর দিন সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় জামরাতুল আকুবায় কংকর নিক্ষেপ করা মুস্তাহাব এবং রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ’আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ….. জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেনঃ “আমার নিকট থেকে তোমরা হজ্জের নিয়ম-কানুন শিখে নাও। কারণ আমি জানি না- এ হজ্জের পর আমি আর হজ্জ করতে পারব কিনা।”

( মুসলিম সহীহ হাদিস: ৩০২৮ হাদিস একাডেমি, ১২৯৭ আন্তঃ )

৩ । কংকর কোন স্থান হতে কুড়াবেঃ

মিনায় জামরাতে (শয়তানকে মারার জন্য) মুজদালিফায় অবস্থানের সময় রাতে কিংবা সকালে কংকর সংগ্রহ করা।


উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (র) …… আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে ফযল ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন , রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন , যখন তারা সন্ধ্যায় আরাফা ও সকালে মুজদালিফা ত্যাগ করেন , তোমরা ধীর-স্থির ভাবে চল। তখন তিনি উটনীর লাগাম টেনে রাখেন। এরপর যখন তিনি মিনায় প্রবেশ করেন তখন তিনি অবতরণ করেন। “মুহাসসির” নামক স্থানে তিনি বলেন , তোমরা ‘খায়ক’ (দুই আঙুলে মারার ছোট ) কংকর সাথে নাও, যা জামরায় মারতে হবে। রাবী বলেন , রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে ইঙ্গিত করে বলেন ;যেরূপ কংকর মানুষ সাধারণত মেরে থাকে।

(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ ৩০৬০,৩০৬১/ ইবনে মাজাহ সহীহ হাদিসঃ ৩০২৯)

৪ । জামরাতুল আকবায় কংকর মারার স্থানঃ

মোজাহিদ ইবনে মূসা (র )আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ (র) বর্ণনা করেন ,আমি ইবনে মাসউদ (রাঃ) কে বাতনে ওয়াদী (উপত্যকার নিন্মাংশে) হতে জামরাতুল আকবায় কংকর মারতে দেখেছি। তারপর তিনি বলেন: যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই তার শপথ ! এই সে ব্যক্তির কংকর মারার স্থান, যার উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছে।
(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ৩০৭৪,৩০৭৫ ইফাবা)

৫ । কংকর মারার সংখ্যাঃ

হজ্জ
ইব্রাহিম ইবনে হারুন (র ) হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) নিকট গিয়ে বললাম। আমাকে নবী করিম (সাঃ) হজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের নিকট এর জামরায় সাতটি কংকর মারেন। তিনি এর প্রত্যেক কংকরের সাথে তাকবীর বলেন , রাসূল (সাঃ)কংকর মারেন বাতনে ওয়াদী (উপত্যকার নিন্মাংশে) হতে। এর পর তিনি জবেহ বা কোরবানির স্থানে গিয়ে কোরবানি করেন।
(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ৩০৭৯ ইফাবা)

৬ । কংকর মারার পর দোয়া করাঃ

আব্বাস ইবনে আব্দুল আজিম আম্বরী (র) ….. যুহরী (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমাদের নিকট (হাদিসে) পৌঁছেছে যে , রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মিনার জবাই করার স্থানের নিকটস্থ জামরায় কংকর মারেন , তখন তাতে সাতটি কংকর মারেন। যখনি তিনি একটি কংকর মারেন , তখনি তাকবীর বলেন। তারপর তিনি এর সামনে অগ্রসর হন এবং পশ্চিম মোখি হয়ে দাঁড়ান এবং উনার দুহাত তুলে অনেক্ষন দু’আ করেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় জামরায় এসে তাতেও সাতটি কংকর মারেন এবং প্রতিটি কংকর মারার সময় তাকবীর বলেন। এরপর তিনি বাম দিকে কিছুটা সরে যান এবং কেবলা মুখী হয়ে দাড়িয়ে উনার দু হাত তুলে দু’আ করেন। এরপর তিনি আকাবার নিকটস্থ জামরায় আগমন করেন এবং এতেও তিনি সাতটি কংকর মারেন। কিন্তু এর নিকট তিনি দাঁড়ান নি। যুহরী (র) বলেন , আমি সালিম (র) কে এই হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছি তার পিতার মাধ্যমে। আর তিনি নবী (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। আর ইবন উমর (রা) এরূপ আমল করতেন।
(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ৩০৮৬ ইফাবা)

৭ । কঙ্কর নিক্ষেপের সময়ঃ

ইবন হাম্বল ….. আবু যুবায়ের (র ) বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) কে বলতে শুনেছি, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ১০ যিলহজ্জ তারিখে দ্বি-প্রহরের সময় তাঁর বাহনের উপর সাওয়ার অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। আর ১০ যিলহজ্জের পরে তিনি সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পর কংকর নিক্ষেপ করতেন।


কংকর নিক্ষেপের পর পশু কুরবানী করাঃ
বড় জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করে মিনায় কোরবানির পশু জবাই এ ক্ষেত্রে যারা ব্যাংকের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করবেন, তারা ব্যাংকের লোকদের কাছ থেকে মাথা মুণ্ডনের নির্দিষ্ট সময় জেনে নেওয়া।

(আবু দাউদ সহীহ হাদিসঃ ১৯৬৮ ইফাবা)

কংকর নিক্ষেপের পর পশু কুরবানী করাঃ

বড় জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করে মিনায় কোরবানির পশু জবাই এ ক্ষেত্রে যারা ব্যাংকের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করবেন, তারা ব্যাংকের লোকদের কাছ থেকে মাথা মুণ্ডনের নির্দিষ্ট সময় জেনে নেওয়া।

১ । উট কুরবানীর ফযীলত এবং অভাবী মানুষদের মাঝে বিতরণ করাঃ

আর কুরবানীর উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন বানিয়েছি; তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে কল্যাণ। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় সেগুলির উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর যখন সেগুলি কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদেরকে খেতে দাও। এভাবেই আমি ওগুলিকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
(সুরা হজ্জ আয়াতঃ৩৬)

২ । কুরবানীর গোশত আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হয়না কবুল হয় তার তাকওয়াঃ

আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশ্ত ও রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি সে সবকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবীর পাঠ করতে পার, এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন; সুতরাং তুমি সৎকর্মশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।
(সুরা হজ্জ আয়াতঃ৩৭)

৩ । নিজ হাতে কুরবানী করাঃ

সাহল ইবনে বাক্কর (র)…. আনাস (রা)থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন নবী করিম (সঃ) নিজ হাতে সাতটি উট দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কুরবানী করেন এবং মদীনাতেও হৃষ্ট পুষ্ট সুন্দর শিং বিশিষ্ঠ দুটি দুম্বা তিনি কোরবানী করেছেন ।হাদীসটি এখানে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬০৪ ইফাবা, ১৭১২ আন্তঃ)

৪ । কুরবানীর পশুতে সাত জন শরীক হতে পারবেঃ

আহমাদ ইবনু ইউনুস ও ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ….. জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। আমাদের সাথে মহিলাগণ এবং শিশুরাও ছিল। আমরা মক্কায় (মক্কায়) পৌছে বায়তুল্লাহ এর ত্বওয়াফ (তাওয়াফ/তওয়াফ) করলাম এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন, যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমরা বললাম, কী ধরনের ইহরাম ভঙ্গ করব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরাম ভঙ্গ কর। রাবী বলেন, অতএব আমরা আমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করলাম, (সাধারণ) পোশাক পরলাম এবং সুগন্ধি মাখলাম। তালবিয়ার দিন আমরা হাজ্জের ইহরাম বাঁধলাম এবং পূর্বেকার তওয়াফ ও সাঈ আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি কুরবানীর গরু এবং উটে সাতজন করে শারীক হবার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন।
(মুসলিম সহীহ হাদিসঃ২৮৩০ ইফাবা, ১২১৩ আন্তঃ )

৫ । কুরবানীর পশুর গলায় নিজ হাতে কিলাদা ( মালা ) পড়ানোঃ

আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … যিয়াদ ইবনু আবূ সুফিয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাঃ) এর নিকট পত্র লিখলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি কুরবানীর (হাদী) পশু (মক্কা) পাঠায় তা যবেহ না করা পর্যন্ত তাঁর জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম। (বর্ণনাকারিণী), বলেন, আয়িশা (রাঃ) বললেন, ইবনু আব্বাস (রাঃ) যেমন বলেছেন, ব্যাপার তেমন নয়। আমি নিজ হাতে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাঁকে কিলাদা পরিয়ে দেন। এরপর আমার পিতার সঙ্গে তা পাঠান। সে জানোয়ার যবেহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তু রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি হারাম হয়নি।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৯২,১৫৯১ ইফাবা, ১৭০০,১৬৯৯ আন্তঃ)

৬ । কুরবানীর পশুর গলায় পশমের তৈরি কিলাদা (মালা) পড়ানো যায়ঃ

আমর ইবনু আলী (রহঃ) … উম্মুল মুমিনীন [আয়িশা (রাঃ)] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে যে পশম ছিল আমি তা দিয়ে কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৯৭ ইফাবা, ১৭০৫ আন্তঃ)

৭ । কুরবানীর পশুর গলায় জুতার তৈরি কিলাদা (মালা) পড়ানো যায়ঃ

মুহাম্মদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যাক্তিকে একটি কুরবানীর উট হাকিয়ে নিতে দেখে বললেনঃ এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এটি কুরবানীর উট। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এর উপর সাওয়ার হয়ে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি লোকটিকে দেখেছি যে, সে ঐ পশুটির পিঠে চড়ে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাথে চলছিল আর পশুটি গলায় জুতার মালা ঝুলান ছিল। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) এ বর্ণনার অনুসরণ করেছেন। ’ উসমান ইবনু ’উমর (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৯৮ ইফাবা, ১৭০৬ আন্তঃ)

৮ । কুরবানীর উট দাড়করিয়ে কুরবানী করাঃ

সাহ্‌ল ইবনু বাক্কার (রহঃ) … আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনাতে যোহর চার রাক’আতে এবং যুল হুলাইফাতে ’আস্‌র দু’রাক’আত আদায় করলেন এবং এখানেই রাত যাপন করলেন। ভোর হলে তিনি সাওয়ারীতে আরোহণ করে তাহ্‌লীল ও তাসবীহ পাঠ করতে লাগলেন। এরপর বায়াদায় যাওয়ার পর তিনি হাজ্জ (হজ্জ) ও ’উমরা উভয়ের জন্য তালবিয়া পাঠ করেন এবং মক্কায় প্রবেশ করে তিনি সাহাবাদের ইহ্‌রাম খুলে ফেলার নির্দেশ দেন। আর (সে হাজ্জে) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতটি উট দাঁড় করিয়ে নিজ হাতে কুরবনী করেন আর মদিনাতে হৃষ্টপুষ্ট শিং বিশিষ্ট সুন্দর দু’টি মেষ কুরবানী দেন।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬০৬ ইফাবা, ১৭১৪ আন্তঃ)

৯ । কুরবানীর গোশত থেকে কসাইকে পারিশ্রমিক না দেওয়া এবং এর চামড়া সাদকা করাঃ

মুসাদ্দাদ (রহঃ) … আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে আর এগুলোর সমুদয় মাংস, চামড়া এবং পিঠের আবরণসমূহ বিতরণ করতে নির্দেশ দেন এবং এর থেকে যেন কসাইকে পারিশ্রমিক হিসাবে কিছুই না দেওয়া হয়।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬০৯,১৬০৮ ইফাবা, ১৭১৭,১৭১৬ আন্তঃ)

১০ । কুরবানীর পশুর পিঠের আবরণ (কাপড়) সাদকা করাঃ

আবূ নুআইম (রহঃ) … আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর একশ’ উট পাঠান এবং আমাকে মাংস সম্বন্ধে নির্দেশ দিলেন। আমি তা বন্টন করে দিলাম। এরপর তিনি তার পিঠের আবরণ সম্বন্ধে আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি তা বন্টন করে দিলাম। তারপর তিনি আমাকে চামড়া সম্বন্ধে নির্দেশ দেন, আমি তা বন্টন করে দিলাম।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬১০ ইফাবা, ১৭১৮ আন্তঃ)

১১ । মানতের জন্য এবং শিকারের বদল স্বরূপ যে পশু যবেহ করা হয় তা খাওয়া যাবে নাঃ

কুরবানীর মাংস কী পরিমাণ খাবে এবং কী পরিমাণ সাদকা করবে? উবায়দুল্লাহ (রহঃ) নাফি (রহঃ) সূত্রে ইব্‌ন ’উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, শিকারের বদল স্বরূপ এবং মানতের জন্য যে জানোয়ার যবেহ করা হয়, তা খাওয়া যাবে না। এ ছাড়া অন্যান্য সব কুরবানীর মাংস খাওয়া যাবে। আতা (রহঃ) বলেন, তামাত্তুর কুরবানীর মাংস খেতে পারবে এবং (অন্যকেও) খাওয়াতে পারবে।
(বুখারী পরিচ্ছেদঃ ১০৮৪)

১২ । কুরবানীর পশুর গোশত তিনদিনের বেশি সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবেঃ

কুরবানী করা
মুসাদ্দাদ (রহঃ) … জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আমাদের কুরবানীর মাংস মিনার তিন দিনের বেশি খেতাম না। এরপর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অনুমতি দিলেন এবং বললেন খাও এবং সঞ্চয় করে রাখ। তাই আমরা খেলাম এবং সঞ্চয়ও করলাম। রাবী বলেন, আমি ’আতা (রহঃ)-কে বললাম, জাবির (রাঃ) কি বলেছেন আমরা মদিনায় আসা পর্যন্ত? তিনি বললেন না।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬১১ ইফাবা, ১৭১৯ আন্তঃ)

মাথা মুণ্ডন করাঃ

কুরবানীর পর পরই মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হজের ইহরাম থেকে হালাল হবে হাজি। মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হাজি ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করাসহ সব সাধারণ কাজ করতে পারবে।


নোটঃ মাথা মুন্ডনের পদ্ধতি উপরের উমরাহের অধ্যায়ে দেওয়া রয়েছে দয়াকরে সেখান থেকে দেখে নিন ।

hair cut umrah

তাওয়াফে জিয়ারত (১০ জিলহজ) ?

হাজ্জী গণকে তিনবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে হয়। প্রথমে মক্কায় পৌঁছে – এটা তাওয়াফে কুদুম (আগমনী তাওয়াফ) তা সুন্নাত। দ্বিতীয় বার মিনা থেকে ফিরে এসে (১০ ই জিলহজ)- এটা তাওয়াতে যিয়ারত বা তাওয়াফে ইফাদা, এটা ফরজ। তৃতীয় বার হজ্জ শেষে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে এটা তাওয়াফে বিদা (বিদায়ী তাওয়াফ) . মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তা ওয়াজিব। মক্কার আশেপাশের লোকদের জন্য তা অপরিহার্য নয়।

তাওয়াফুল ইফাদা ১০ ই জিলহজঃ

এ তাওয়াফের অপর নাম তাওয়াফে যিয়ারাহ বা ফরয তাওয়াফ। এটি হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। তাওয়াফুল ইফাদাহ করা ও সা‘ঈ করা হজ্জের ফরয কাজ। আপনি যদি মিনা থেকে মক্কায় এ তাওয়াফ করতে যান তবে দু’ভাবে যেতে পারেন।


– পায়ে হেঁটে জামরাত পার করে প্যডেস্ট্রিয়ান টানেল (সুড়ঙ্গ পথ) রাস্তা দিয়ে।
– মিনায় কিং ফয়সাল ওভারব্রিজ-এর উপর থেকে বা জামরাতের পাশে থেকে কার বা মটরসাইকেল ভাড়া করে। 

আর আপনি যদি মাথা মুণ্ডন করার পরপরই মক্কায় চলে গিয়ে থাকেন তবে আপনার হোটেল বা ভাড়া বাসা থেকেই এ তাওয়াফ করতে যাবেন।


মুহাম্মদ ইব্ন রাফি (র) …… নাফি (র) ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন তাওয়াফুল ইফাযা সম্পূর্ন করেন, অতঃপর মিনায় ফিরে এসে যোহরের সালাত আদায় করেন। নাফি বলেন, ইব্ন উমর (রা)- ও কুরবানীর দিন তাওয়াফুল ইফাযা সম্পন্ন করতেন , অতঃপর ফিরে এসে মিনায় যোহরের সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন , রসূলাল্লাহ (সাঃ) এরূপ করেছেন।

( মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ৩০৩৫ ইফাবা )

কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করা ১০ ই জিলহজঃ

ইয়াহইয় ইবনু বুকাইর (রহঃ) … ’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমারা রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হাজ্জ (হজ্জ) আদায় করে কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারা করলাম। এ সময় সাফিয়্যা (রাঃ) এর হায়েয দেখা দিল। তখন রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে। আমি আরয করলাম, ইয়া রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তিনি তো হায়েযা। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে তো সে আমাদের আটকিয়ে ফেলবে। তারা বললেন, ইয়া রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সাফিয়্যা (রাঃ) তো কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারা করে নিয়েছেন। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে রওয়ানা হও। কাসিম, ’উরওয়া ও আসা’দ (রহঃ) সূত্রে ’আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, সাফিয়্যা কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারা আদায় করেছেন।
( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬২৪ ইফাবা, ১৭৩২-১৭৩৩ আন্তঃ )

সাফা মারওয়া পাহাড় সাঈ করাঃ

সাঈ শব্দের অর্থ হলো দৌড়ানো। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে বিশেষ পদ্ধতিতে সাত বার দৌড়ানোকে সাঈ বলে। ‘সাঈ’ বাইতুল্লায় হজ পালন ও ওমরা জন্য ওয়াজিব কাজগুলোর একটি।


নোটঃ সাফা মারওয়া পাহাড় সাঈ করার পদ্ধতি বিস্তারিত এই বয়ের উমরাহের অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে দয়াকরে সেখান থেকে দেখে নিন।

১১-১৩ জিলহজ তারিখ তাকবিরে তাশরিক পাঠ করাঃ

الله أكبر، الله أكبر، لاإله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد

উচ্চারণঃ আল্লহু আক্‌বার, আল্লহু আক্‌বার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লহু আকবার আল্লহু আক্‌বার ওয়া লিল্লা-হিল হাম্‌দ।


অর্থঃ আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নাই; আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান এবং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।


মহান আল্লাহ্তায়ালা বলেন:
অর্থ: আর আল্লাহকে স্মরণ কর নির্দিষ্ট দিনসমূহে। অতঃপর যে তাড়াহুড়া করে দু’দিনে চলে আসবে। তার কোন পাপ নেই। আর যে বিলম্ব করবে, তারও কোন অপরাধ নেই। (এ বিধান) তার জন্য, যে তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় তোমাদেরকে তাঁরই কাছে সমবেত করা হবে।

( সূরা বাকারা আয়াতঃ ২০৩ )

এ আয়াতে নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন বলতে আইয়্যামে তাশরীকের দিনসমূহ (তথা জিলহজের ১১, ১২ ও ১৩) কে বুঝানো হয়েছে। আর আইয়ামে তাশরীকের প্রথম দিন হচ্ছে ১১ তারিখ। অতএব, উক্ত আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে ব্যক্তি আইয়ামে তাশরীকের মধ্য থেকে প্রথম দু’দিনে তাড়াহুড়া করে চলে আসবে তার কোনো গোনাহ্ নেই। আর উক্ত দু’দিনের দ্বিতীয় দিন হচ্ছে ১২তম দিন।


১১ ই যিলহজ্জ (আইয়ামে তাশরীক) ১ম দিন ( মিনা )
দুপুরের পর সিরিয়াল ঠিক রেখে প্রথমে ছোট, মধ্যম ও এর পরে বড় জামরায় প্রত্যেকটিতে ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ করবেন।

• মিনায় রাত্রি যাপন করবেন।


১২ ই যিলহজ্জ ( আইয়ামে তাশরীক ) ২য় দিন ( মিনা )
পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ৩টি জামরায় ৭+৭+৭=২১টি কংকর নিক্ষেপ করবেন। দুপুরের আগে কংকর নিক্ষেপ করবেন না।
• সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন। তা না পারলে আজ দিবাগত রাতও মিনায় কাটাবেন।


১৩ ই যিলহজ্জ ( আইয়ামে তাশরীক ) ৩য় দিন ( মিনা )
• যারা গত রাত মিনায় কাটিয়েছেন তারা আজ দুপুরের পর পূর্ব দিনের নিয়মেই ৭টি করে মোট ২১ টি কংকর মারবেন। অতঃপর মিনা ত্যাগ করবেন।


• অতঃপর মক্কায় এসে দেশে ফেরার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ করবেন।

কংকর নিক্ষেপঃ

১১ ও ১২ জিলহজ প্রতিদিন মিনায় অবস্থান করবে এবং ধারাবাহিকভাবে ছোট, মধ্যম ও বড় জামরাতে ৭টি করে ২১টি কংকর নিক্ষেপ করবে। তবে যদি কেউ কংকর নিক্ষেপের আগে কিংবা পরে কাবা শরিফ গিয়ে তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করে তবে তাকে তাওয়াফের পর আবার মদিনায় চলে আসতে হবে এবং মিনায় অবস্থান করতে হবে।


নারী, বৃদ্ধ ও দুর্বলদের কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে রাতের সময় বেচে নেওয়া উত্তম। তবে কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে এখন হজ কর্তৃপক্ষ সময়সূচি নির্ধারণ করে দেওয়া এবং বাংলায় দিক নির্দেশনার ব্যবস্থা করে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী মিনায় কংকর নিক্ষেপের সময় জেনে তা পালন করা।

হজ্জ

মিনায় রাতযাপন ও ত্যাগঃ

১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় রাতযাপন করা এবং যারা মিনা ত্যাগ করবেন তারা ১২ তারিখ সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করবেন। সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারলে সে রাত (১৩ জিলহজ) মিনায় অবস্থান করা।


উল্লেখ্য, যদি কেউ ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারে কিংবা থাকার ইচ্ছা করে তাকে ১৩ জিলহজ ৭টি করে আরও ২১টি কংকর নিক্ষেপ করতে হবে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৩ জিলহজও মিনায় অবস্থান করেছিলেন।

Leave a Reply