বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
Table of Contents
Toggleহজ্জ পালনের ৫ দিনের ধারাবাহিক নিয়ম
হজ্জ কি ?
হজ্জ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলোঃ ইচ্ছে করা, ঘোরাফেরা করা, সংকল্প করা, পর্যবেক্ষণ করা ইত্যাদি।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরআন ও হাদিসের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে কাবা ঘর এবং নির্দিষ্ট স্থান সমূহে তাওয়াফ ও জিয়ারত করাকে হজ্জ বলে। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো হজ্জ।এটি এমন ইবাদত যেখানে আর্থিক ও শারীরিক উভয়েই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
হজ্জ পালন করা ফরজঃ
মহান আল্লহতায়ালা বলেনঃ
فِيهِ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ مَقَامُ إِبْرَاهِيمَ ۖ وَمَنْ دَخَلَهُ كَانَ آمِنًا ۗ وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ
অর্থঃ এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, যেমন মাকামে ইব্রাহীম। আর যে কেউ সেখানে প্রবেশ করে সে নিরাপদ। মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহ্ উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জ করা তার অবশ্যকর্তব্য। আর কেউ প্রত্যাখ্যান করলে সে জেনে রাখুক, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বিশ্বজগতের মুখাপেক্ষী নন।
(সূরা আল-ইমরান আয়াতঃ ৯৭)
মহান আল্লাহ্তায়ালা অন্য আরেকটি আয়াতে বলেনঃ
হাদিসের বর্ণনায়ঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ হে জনগণ! তোমাদের উপর হাজ্জ (হজ্জ) ফরয করা হয়েছে। অতএব তোমরা হাজ্জ (হজ্জ) কর। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তা কি প্রতি বছর? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নীরব থাকলেন এবং সে তিনবার কথাটি বলল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি হ্যাঁ বললে তা অবধারিত হয়ে যাবে (প্রতি বছরের জন্য) অথচ তোমরা তা পালন করতে সক্ষম হবে না। তিনি পুনরায় বললেনঃ তোমরা আমাকে ততইকু কথার উপর থাকতে দাও যতটুকু আমি তোমাদের জন্য বলি। কারণ তোমাদের পুর্বেকার লোকেরা তাদের অধিক প্রশ্নের কারণে এবং তাদের নবীদের সাথে বিরোধীতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। অতএব আমি তোমাদের যখন কোন কিছু করার নির্দেশ দেই- তোমরা তা যথাসাধ্য পালন কর এবং যখন তোমাদের কোন কিছু করতে নিষেধ করি তখন তা পরিত্যাগ কর।
(মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ৩১২৭ ইফাবা)
যে ব্যক্তি সুবহে সাদিক উদয় হওয়ার পূর্বেই আরাফায় আসতে সক্ষম হবে সে হজ পেলঃ
( আবু-দাউদ সহীহ হাদিসঃ ১৯৪৯ তাহকীককৃত, তিরমিজী সহীহ হাদিসঃ ৮৮৯ তাহকীককৃত, ইবনে মাজাহ সহীহ হাদিসঃ ৩০১৫ )
হজের ধারাবাহিক কাজ গুলো আগে পিছে করার বৈধতাঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬২৬ ইফাবা, ১৭৩৫ আন্তঃ)
হজ্জের ফরজ ৩টিঃ
১। ইহরাম বাধা
২। উকুফে আরাফা (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান)
৩। তাওয়াফুয্ যিয়ারাত
হজ্জের ওয়াজিব ৬টিঃ
১ । সাফা ও মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা।
২ । অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যদয় পর্যন্ত একমুহুর্তের জন্য হলেও অবস্থান করা।
৩ । মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিক্ষেপ করা।
৪ । হজ্জে তামাত্তু ও কি্রান কারীগণ ‘হজ্জ’ সমাপনের জন্য দমে শোকর করা(হাদি {পশু} জবাই)।
৫ । এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।
৬ । মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদায় অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা।
এছাড়া আর যে সমস্ত আমল রয়েছে সব সুন্নাত
৮ জিলহজ্জ তারিখের ধারাবাহিক কাজঃ
হজ্জের নিয়ত করে ইহরাম বাঁধা ( ৮ জিলহজ ) ?
মক্কার হারাম শরিফ বা বাসা-হোটেল বা ইহরামের নির্দিষ্ট স্থান থেকে থেকে হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া এবং জোহরের সলাতের পূর্বেই মিনায় পৌঁছা। এখন অবশ্য ৭ তারিখে রাত থেকেই হাজিদের মিনায় নেওয়ার কাজ শুরু হয়।
ক । নিজ বাসস্থান থেকে ইহরাম বেঁধে হজ্জের নিয়ত করে সূর্যোদয়ের পর মিনায় রওয়ানা হবেন।
খ । সেখানে যুহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের সালাত আদায় করবেন।
মিনায় অবস্থান ৮ জিলহজঃ
মিনায় ৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব এবং সেখানে অবস্থান করা সুন্নত।
আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) … ’আবদুল ’আযীয ইবনু রুফাইয়’ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তাঁর কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহাজ্জ মাসের আট তারিখ যুহর ও আসরের সলাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা থেকে ফিরার দিন ’আসরের সলাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাসসাবে। এরপর আনাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর।
( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৫০ ইফাবা, ১৬৫৩ আন্তঃ )
৯ জিলহজ্জ তারিখের ধারাবাহিক কাজঃ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান ( ৯ জিলহজ্জ ) ?
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৫৫ ইফাবা, ১৬৫৮ আন্তঃ)
১ । আরাফার দিন রোজা পালন না করাঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৫৫ ইফাবা, ১৬৫৮ আন্তঃ)
২ । সন্দেহজনক কাজের বিধানঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৯২৪ ইফাবা, ২০৫২ আন্তঃ)
৩ । মিনা থেকে আরাফা যাওয়ার সময় তালবিয়া ও তাকবীর বলাঃ
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ আশ-শামী (রহঃ) … মুহাম্মদ ইবনু আবূ বকর সাকাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা থেকে ’আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে থেকে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তাঁরা পড়ত, তাতে বাধা দেওয়া হতো না এবং যারা তাকবীর পড়তে চাইত তাঁরা তাকবীর পড়ত, এতেও বাধা দেয়া হতো না।
তালবিয়াঃ
لَبَّيْكَ اَللّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণঃ লাব্বাইকা আল্ল-হুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়ালমুল্ক, লা শারিকা লাক।
অর্থঃ আমি হাজির হে আল্লাহ! আমি হাজির, আমি হাজির। আপনার কোনো শরিক নেই। আমি হাজির। নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং সকল রাজত্ব আপনার। আপনার কোনো শরিক নেই।
তাকবীরঃ
ا لله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
উচ্চারণঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।
অর্থঃ আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান৷ আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আল্লাহ মহান৷ আল্লহ মহান এবং সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য৷
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৫৬ ইফাবা, ১৬৫৯ আন্তঃ, মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ২৯৬৮ ইফাবা)
৪ । আরাফার ময়দানে অবস্থান কালে দোয়াঃ
আরাফার দিনের অনেক দোয়া রয়েছে, তার মাঝে উল্লেখ যোগ্য দোয়াটি, এই দোয়ার বিশেষ গুরুত্বের কথা বর্ণিত হয়েছে হাদিসে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আরাফাতের দিনের দোয়াই শ্রেষ্ঠ দোয়া। দোয়া-জিকির হিসেবে সর্বোত্তম হলো ওই দোয়া, যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ করেছেন। তা হলোঃ
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন ক্বদির।
অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তার কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তারই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তারই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান।
(তিরমিজি হাসান হাদিসঃ ৩৫৮৫ তাহকিককৃত / মিশকাত হাসান হাদিসঃ২৫৯৮ )
৫ । খুতবা শোনাঃ
(আবু দাউদ সহীহ হাদীসঃ ১৯১৪, ১৯১৫ ইফাবা)
৬ । আরাফা থেকে ফিরার পথে চলার গতি:
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬২ ইফাবা, ১৬৬৬ আন্তঃ)
৯ - ১০ জিলহজ মুজদালিফায় অবস্থানঃ
আরাফাতের ময়দান থেকে দিনের বেলায় রওয়ানা দিয়ে গিরিপথ দিয়ে মুজদালিফায় এসে একত্রে দুই ওয়াক্তের সলাত আদায় করা ।
মুজদালিফায় সারারাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা। মুজদালিফায় সুবহে সাদিক পর্যন্ত থাকা সুন্নত। সুবহে-সাদিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত যেকোনো এক মুহূর্ত মুজদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব।
আরাফাতের ময়দান ছেড়ে প্রায় ছয় কিলোমিটার অতিক্রম করার পর মুজদালিফা। তারপর ওয়াদিয়ে মুহাসসার এর পরে মিনা। ওয়াদিয়ে মুহাসসার (হস্তিবাহিনীর ধ্বংসের স্থান) ব্যতীত পুরো মুজদালিফা এলাকায় অবস্থান করা যায়।
মুজদালিফায় অবস্থান প্রসঙ্গে , মহান আল্লাহ তায়ালা আল-কোরআনে উল্লেখ করে বলেন –
‘তোমাদের উপর তোমাদের পালন কর্তার অনেশন করায় কোন পাপ নেয়। যখন তোমরা আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তন করো তাওয়াফের জন্য , তখন মাশ আর-হারামের নিকটে আল্লাহকে স্মরণ করো (মুজদালিফায়)তেমনি করে তোমাদিককে হেদায়েত করা হয়েছে ,নিশ্বচয় তোমরা তো ইতোপূর্বে অজ্ঞ ছিলে।
(সুরা আল- বাকারা আয়াত: ১৯৮ )
১ । আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করাঃ
কুতাইবা (রহঃ) … উসামা ইবনু যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরাফা থেকে সওয়ারীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুজদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌঁছলে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উটটি বসালেন। এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাঁকে উযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হাল্কাভাবে ওযু করে নিলেন। আমি বললাম, ইয়া রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! সলাত? তিনি বললেনঃ সলাত তোমার আরো সামনে। এ কথা বলে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফা আসলেন এবং সলাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে আরোহণ করলেন।
কুরাইব (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) ফযল (রাঃ) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামারায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬৫ ইফাবা, ১৬৬৯-১৬৭০ আন্তঃ)
২ । আরাফা থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় ধীরে চলার নির্দেশ দিতেনঃ
( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬৬ ইফাবা, ১৬৭১ আন্তঃ )
৩ । মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার নামায একত্রে পড়াঃ
– মুসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) … নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) মুযদালিফার মাগরিব ও ইশার সলাত এক সাথে আদায় করতেন। এ ছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং ওযু করতেন কিন্তু সলাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছে সলাত আদায় করতেন।
– মুহাম্মদ ইবন কাসীর …. আব্দুল্লাহ ইব্ন মালিক (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমরের সাথে (মুযদালিফায়) মাগরীবের নামাজ তিন রাক’আত এবং ইশার নামাজ দুই রাক’আত আদায় করেছি। তখন মালিক ইবনে হারিস (র) তাকে জিজ্ঞাসা করে , এ কিরূপ নামাজ? জবাবে তিনি বলেন এ নামাজদ্বয়কে এ স্থানে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংঙ্গে একই একামতের সাথে আদায় করেছি।
( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬৪,১৫৬৮ ইফাবা, ১৬৬৮,১৬৭৩ আন্তঃ ) , (আবু দাউদ সহীহ হাদিসঃ ১৯২৭ ইফাবা)
৪ । দুই ওয়াক্ত সলাত একসাথে আদায় করা এবং এর মাঝে কোন নফল সলাত আদায় না করাঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৬৮ ইফাবা, ১৬৭৩ আন্তঃ)
৫ । মাগরিব এবং ইশা উভয় সলাতের জন্য আযান ও ইকামাত দেওয়াঃ
আমর ইবনু খলিদ (রহঃ) … আবদুর রাহমান ইবনু ইয়াযিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) হজ্জ আদায় করলেন। তখন ইশার আযানের সময় বা তার কাছাকাছি সময় আমরা মুযদালিফা পৌঁছালাম। তিনি এক ব্যাক্তিকে আদেশ দিলেন। সে আযান দিল এবং ইকামত বলল। তিনি মাগরিব আদায় করলেন এবং এরপর আরো দুই রাকআত আদায় করলেন। তারপর তিনি রাতের খাবার আনালেন এবং তা খেয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) তারপর তিনি একজনকে আদেশ দিলেন। আমার মনে হয়, লোকটি আযান দিল এবং ইকামত বলল।
আমর (রহঃ) বলেন, আমার বিশ্বাস এ সন্দেহ যুবাইর (রহঃ) থেকেই হয়েছে। তারপর তিনি দুই রাকআত ইশার সলাত আদায় করলেন। ফজর হওয়া মাত্রই তিনি বললেনঃ এ সময়, এ দিনে, এ স্থানে, এ সলাত ব্যতীত রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কোন সলাত আদায় করেননি। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এ দুটি সলাত তাঁদের প্রচলিত ওয়াক্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই লোকেরা মুযদালিফা পৌঁছার পর মাগরিব আদায় করেন এবং ফজরের সময় হওয়া মাত্র ফজরের সলাত আদায় করেন। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এইরূপ করতে দেখেছি।
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৭০ ইফাবা, ১৬৭৫ আন্তঃ)
৬ । মুযদালিফায় ফজরের সলাত কোন সময় আদায় করবেঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৭৭ ইফাবা, ১৬৮২ আন্তঃ)
৭ । মুযদালিফা হতে কখন রওয়ানা হবেঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৭৯ ইফাবা, ১৬৮৪ আন্তঃ)
৮ । যারা পরিবারের দুর্বল লোক তাদেরকে মুযদালিফা থেকে রাতেই পাঠিয়ে দিয়ে মিনায় জামরাতে কংকর মাড়াতেনঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৭১,১৫৭৬ ইফাবা, ১৬৭৬,১৬৮১ আন্তঃ)
১০ জিলহজ্জ তারিখের ধারাবাহিক কাজঃ
জামরায়ে কংকর নিক্ষেপঃ
১ । তালবিয়া পাঠ করেছেন অনবরত জামরায়ে আকাবাতে কঙ্কর না মারা পর্যন্তঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৮১ ইফাবা, ১৬৮৬-১৬৮৭ আন্তঃ)
২ । ১০ই যিলহজ্জ ঈদের দিন এর ধারাবাহিক কাজঃ
ক। বড় জামরায় ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ করবেন।
খ। তারপর কুরবানী করবেন।
গ। তারপর চুল কাটাবেন এবং ইহরামের কাপড় বদলিয়ে সাধারণ পোষাক পরে ফেলবেন।
ঘ। {মক্কায়} তাওয়াফে ইফাদা করবেন। এদিন না পারলে এটি ১১ বা ১২ তারিখেও করতে পারবেন এবং তৎসঙ্গে সাঈও করবেন।
কুরবানীর দিন সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় জামরাতুল আকুবায় কংকর নিক্ষেপ করা মুস্তাহাব এবং রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ও ’আলী ইবনু খাশরম (রহঃ) ….. জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেনঃ “আমার নিকট থেকে তোমরা হজ্জের নিয়ম-কানুন শিখে নাও। কারণ আমি জানি না- এ হজ্জের পর আমি আর হজ্জ করতে পারব কিনা।”
( মুসলিম সহীহ হাদিস: ৩০২৮ হাদিস একাডেমি, ১২৯৭ আন্তঃ )
৩ । কংকর কোন স্থান হতে কুড়াবেঃ
মিনায় জামরাতে (শয়তানকে মারার জন্য) মুজদালিফায় অবস্থানের সময় রাতে কিংবা সকালে কংকর সংগ্রহ করা।
উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ (র) …… আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে ফযল ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন , রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন , যখন তারা সন্ধ্যায় আরাফা ও সকালে মুজদালিফা ত্যাগ করেন , তোমরা ধীর-স্থির ভাবে চল। তখন তিনি উটনীর লাগাম টেনে রাখেন। এরপর যখন তিনি মিনায় প্রবেশ করেন তখন তিনি অবতরণ করেন। “মুহাসসির” নামক স্থানে তিনি বলেন , তোমরা ‘খায়ক’ (দুই আঙুলে মারার ছোট ) কংকর সাথে নাও, যা জামরায় মারতে হবে। রাবী বলেন , রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে ইঙ্গিত করে বলেন ;যেরূপ কংকর মানুষ সাধারণত মেরে থাকে।
(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ ৩০৬০,৩০৬১/ ইবনে মাজাহ সহীহ হাদিসঃ ৩০২৯)
৪ । জামরাতুল আকবায় কংকর মারার স্থানঃ
(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ৩০৭৪,৩০৭৫ ইফাবা)
৫ । কংকর মারার সংখ্যাঃ
(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ৩০৭৯ ইফাবা)
৬ । কংকর মারার পর দোয়া করাঃ
(আন-নাসাঈ সহীহ হাদিসঃ৩০৮৬ ইফাবা)
৭ । কঙ্কর নিক্ষেপের সময়ঃ
ইবন হাম্বল ….. আবু যুবায়ের (র ) বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা) কে বলতে শুনেছি, আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ১০ যিলহজ্জ তারিখে দ্বি-প্রহরের সময় তাঁর বাহনের উপর সাওয়ার অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। আর ১০ যিলহজ্জের পরে তিনি সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার পর কংকর নিক্ষেপ করতেন।
কংকর নিক্ষেপের পর পশু কুরবানী করাঃ
বড় জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করে মিনায় কোরবানির পশু জবাই এ ক্ষেত্রে যারা ব্যাংকের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করবেন, তারা ব্যাংকের লোকদের কাছ থেকে মাথা মুণ্ডনের নির্দিষ্ট সময় জেনে নেওয়া।
(আবু দাউদ সহীহ হাদিসঃ ১৯৬৮ ইফাবা)
কংকর নিক্ষেপের পর পশু কুরবানী করাঃ
বড় জামরাতে কংকর নিক্ষেপ করে মিনায় কোরবানির পশু জবাই এ ক্ষেত্রে যারা ব্যাংকের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন করবেন, তারা ব্যাংকের লোকদের কাছ থেকে মাথা মুণ্ডনের নির্দিষ্ট সময় জেনে নেওয়া।
১ । উট কুরবানীর ফযীলত এবং অভাবী মানুষদের মাঝে বিতরণ করাঃ
(সুরা হজ্জ আয়াতঃ৩৬)
২ । কুরবানীর গোশত আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হয়না কবুল হয় তার তাকওয়াঃ
(সুরা হজ্জ আয়াতঃ৩৭)
৩ । নিজ হাতে কুরবানী করাঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬০৪ ইফাবা, ১৭১২ আন্তঃ)
৪ । কুরবানীর পশুতে সাত জন শরীক হতে পারবেঃ
(মুসলিম সহীহ হাদিসঃ২৮৩০ ইফাবা, ১২১৩ আন্তঃ )
৫ । কুরবানীর পশুর গলায় নিজ হাতে কিলাদা ( মালা ) পড়ানোঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৯২,১৫৯১ ইফাবা, ১৭০০,১৬৯৯ আন্তঃ)
৬ । কুরবানীর পশুর গলায় পশমের তৈরি কিলাদা (মালা) পড়ানো যায়ঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৯৭ ইফাবা, ১৭০৫ আন্তঃ)
৭ । কুরবানীর পশুর গলায় জুতার তৈরি কিলাদা (মালা) পড়ানো যায়ঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৫৯৮ ইফাবা, ১৭০৬ আন্তঃ)
৮ । কুরবানীর উট দাড়করিয়ে কুরবানী করাঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬০৬ ইফাবা, ১৭১৪ আন্তঃ)
৯ । কুরবানীর গোশত থেকে কসাইকে পারিশ্রমিক না দেওয়া এবং এর চামড়া সাদকা করাঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬০৯,১৬০৮ ইফাবা, ১৭১৭,১৭১৬ আন্তঃ)
১০ । কুরবানীর পশুর পিঠের আবরণ (কাপড়) সাদকা করাঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬১০ ইফাবা, ১৭১৮ আন্তঃ)
১১ । মানতের জন্য এবং শিকারের বদল স্বরূপ যে পশু যবেহ করা হয় তা খাওয়া যাবে নাঃ
(বুখারী পরিচ্ছেদঃ ১০৮৪)
১২ । কুরবানীর পশুর গোশত তিনদিনের বেশি সংরক্ষণ করে খাওয়া যাবেঃ
(বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬১১ ইফাবা, ১৭১৯ আন্তঃ)
মাথা মুণ্ডন করাঃ
কুরবানীর পর পরই মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হজের ইহরাম থেকে হালাল হবে হাজি। মাথা মুণ্ডনের মাধ্যমে হাজি ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করাসহ সব সাধারণ কাজ করতে পারবে।
নোটঃ মাথা মুন্ডনের পদ্ধতি উপরের উমরাহের অধ্যায়ে দেওয়া রয়েছে দয়াকরে সেখান থেকে দেখে নিন ।
তাওয়াফে জিয়ারত (১০ জিলহজ) ?
তাওয়াফুল ইফাদা ১০ ই জিলহজঃ
এ তাওয়াফের অপর নাম তাওয়াফে যিয়ারাহ বা ফরয তাওয়াফ। এটি হজ্জের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। তাওয়াফুল ইফাদাহ করা ও সা‘ঈ করা হজ্জের ফরয কাজ। আপনি যদি মিনা থেকে মক্কায় এ তাওয়াফ করতে যান তবে দু’ভাবে যেতে পারেন।
– পায়ে হেঁটে জামরাত পার করে প্যডেস্ট্রিয়ান টানেল (সুড়ঙ্গ পথ) রাস্তা দিয়ে।
– মিনায় কিং ফয়সাল ওভারব্রিজ-এর উপর থেকে বা জামরাতের পাশে থেকে কার বা মটরসাইকেল ভাড়া করে।
আর আপনি যদি মাথা মুণ্ডন করার পরপরই মক্কায় চলে গিয়ে থাকেন তবে আপনার হোটেল বা ভাড়া বাসা থেকেই এ তাওয়াফ করতে যাবেন।
মুহাম্মদ ইব্ন রাফি (র) …… নাফি (র) ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন তাওয়াফুল ইফাযা সম্পূর্ন করেন, অতঃপর মিনায় ফিরে এসে যোহরের সালাত আদায় করেন। নাফি বলেন, ইব্ন উমর (রা)- ও কুরবানীর দিন তাওয়াফুল ইফাযা সম্পন্ন করতেন , অতঃপর ফিরে এসে মিনায় যোহরের সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন , রসূলাল্লাহ (সাঃ) এরূপ করেছেন।
( মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ৩০৩৫ ইফাবা )
কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করা ১০ ই জিলহজঃ
( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ১৬২৪ ইফাবা, ১৭৩২-১৭৩৩ আন্তঃ )
সাফা মারওয়া পাহাড় সাঈ করাঃ
সাঈ শব্দের অর্থ হলো দৌড়ানো। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে বিশেষ পদ্ধতিতে সাত বার দৌড়ানোকে সাঈ বলে। ‘সাঈ’ বাইতুল্লায় হজ পালন ও ওমরা জন্য ওয়াজিব কাজগুলোর একটি।
নোটঃ সাফা মারওয়া পাহাড় সাঈ করার পদ্ধতি বিস্তারিত এই বয়ের উমরাহের অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে দয়াকরে সেখান থেকে দেখে নিন।
১১-১৩ জিলহজ তারিখ তাকবিরে তাশরিক পাঠ করাঃ
الله أكبر، الله أكبر، لاإله إلا الله، والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
উচ্চারণঃ আল্লহু আক্বার, আল্লহু আক্বার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লহু আকবার আল্লহু আক্বার ওয়া লিল্লা-হিল হাম্দ।
অর্থঃ আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নাই; আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান এবং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।
মহান আল্লাহ্তায়ালা বলেন:
অর্থ: আর আল্লাহকে স্মরণ কর নির্দিষ্ট দিনসমূহে। অতঃপর যে তাড়াহুড়া করে দু’দিনে চলে আসবে। তার কোন পাপ নেই। আর যে বিলম্ব করবে, তারও কোন অপরাধ নেই। (এ বিধান) তার জন্য, যে তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় তোমাদেরকে তাঁরই কাছে সমবেত করা হবে।
( সূরা বাকারা আয়াতঃ ২০৩ )
এ আয়াতে নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন বলতে আইয়্যামে তাশরীকের দিনসমূহ (তথা জিলহজের ১১, ১২ ও ১৩) কে বুঝানো হয়েছে। আর আইয়ামে তাশরীকের প্রথম দিন হচ্ছে ১১ তারিখ। অতএব, উক্ত আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে ব্যক্তি আইয়ামে তাশরীকের মধ্য থেকে প্রথম দু’দিনে তাড়াহুড়া করে চলে আসবে তার কোনো গোনাহ্ নেই। আর উক্ত দু’দিনের দ্বিতীয় দিন হচ্ছে ১২তম দিন।
১১ ই যিলহজ্জ (আইয়ামে তাশরীক) ১ম দিন ( মিনা )
• দুপুরের পর সিরিয়াল ঠিক রেখে প্রথমে ছোট, মধ্যম ও এর পরে বড় জামরায় প্রত্যেকটিতে ৭টি করে কংকর নিক্ষেপ করবেন।
• মিনায় রাত্রি যাপন করবেন।
১২ ই যিলহজ্জ ( আইয়ামে তাশরীক ) ২য় দিন ( মিনা )
• পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ৩টি জামরায় ৭+৭+৭=২১টি কংকর নিক্ষেপ করবেন। দুপুরের আগে কংকর নিক্ষেপ করবেন না।
• সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন। তা না পারলে আজ দিবাগত রাতও মিনায় কাটাবেন।
১৩ ই যিলহজ্জ ( আইয়ামে তাশরীক ) ৩য় দিন ( মিনা )
• যারা গত রাত মিনায় কাটিয়েছেন তারা আজ দুপুরের পর পূর্ব দিনের নিয়মেই ৭টি করে মোট ২১ টি কংকর মারবেন। অতঃপর মিনা ত্যাগ করবেন।
• অতঃপর মক্কায় এসে দেশে ফেরার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ করবেন।
কংকর নিক্ষেপঃ
১১ ও ১২ জিলহজ প্রতিদিন মিনায় অবস্থান করবে এবং ধারাবাহিকভাবে ছোট, মধ্যম ও বড় জামরাতে ৭টি করে ২১টি কংকর নিক্ষেপ করবে। তবে যদি কেউ কংকর নিক্ষেপের আগে কিংবা পরে কাবা শরিফ গিয়ে তাওয়াফে জিয়ারত আদায় করে তবে তাকে তাওয়াফের পর আবার মদিনায় চলে আসতে হবে এবং মিনায় অবস্থান করতে হবে।
নারী, বৃদ্ধ ও দুর্বলদের কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে রাতের সময় বেচে নেওয়া উত্তম। তবে কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে এখন হজ কর্তৃপক্ষ সময়সূচি নির্ধারণ করে দেওয়া এবং বাংলায় দিক নির্দেশনার ব্যবস্থা করে। সে নির্দেশনা অনুযায়ী মিনায় কংকর নিক্ষেপের সময় জেনে তা পালন করা।
মিনায় রাতযাপন ও ত্যাগঃ
১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় রাতযাপন করা এবং যারা মিনা ত্যাগ করবেন তারা ১২ তারিখ সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করবেন। সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারলে সে রাত (১৩ জিলহজ) মিনায় অবস্থান করা।
উল্লেখ্য, যদি কেউ ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগে মিনা ত্যাগ করতে না পারে কিংবা থাকার ইচ্ছা করে তাকে ১৩ জিলহজ ৭টি করে আরও ২১টি কংকর নিক্ষেপ করতে হবে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১৩ জিলহজও মিনায় অবস্থান করেছিলেন।
Share this:
- Print (Opens in new window) Print
- Share on LinkedIn (Opens in new window) LinkedIn
- Share on Reddit (Opens in new window) Reddit
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Tumblr (Opens in new window) Tumblr
