Skip to content

আখিরাত কি? এবং আখিরাতে কি কি হবে ? What is the Hereafter | Hereafter

আখিরাত কি ?

আখিরাত (الأخرة) হলো ইসলামে বর্ণিত মৃত্যু-পরবর্তী অনন্ত জীবন বা পরকাল, যেখানে এই দুনিয়ার সমস্ত কাজের হিসাব নেওয়া হবে এবং ভালো কাজের জন্য পুরস্কার হিসেবে (জান্নাত) ও মন্দ কাজের জন্য শাস্তি হল (জাহান্নাম) দেওয়া হবে। এটি মৃত্যুর পর শুরু হয়ে কবর, কেয়ামত, হাশর, মীযান, পুলসিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম পর্যন্ত বিস্তৃত একটি চিরস্থায়ী জীবন, যার কোনো শেষ নেই।
আল-কোরআনের এবং হাদিসের আলোকে নিন্মে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল।
মহান আল্লাহতায়ালা বলেনঃ
অর্থঃ “তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। অতঃপর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর অস্বীকারকারী এবং তারা অহঙ্কারী। “
সূরা নাহল আয়াত:২২
মহান আল্লাহ্তায়ালা আরেকটি আয়াতে বলেনঃ
অর্থঃ “আর যারা ঈমান আনে তাতে, যা তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা তোমার পূর্বে নাযিল করা হয়েছে। আর আখিরাতের প্রতি তারা ইয়াকীন রাখে।”
সূরা বাকারা আয়াত : ৪
মহান আল্লাহ্তায়ালা আরেকটি আয়াতে বলেন:
অর্থঃ “তারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবনকে খরিদ করেছে। সুতরাং তাদের থেকে আযাব হালকা করা হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না। “
সূরা বাকারা আয়াত: ৮৬

আখিরাতের প্রধান স্তরসমূহ:

মৃত্যুর পর কবরে ‘আলমে বারজাখ’ (অন্তর্বর্তীকালীন জীবন) শুরু হয়, এরপর জান্নাত এবং জাহান্নামে যাওয়ার পূর্বে বেশ কিছু ধাপ পার হতে হয় এগুলো আল-কোরআন এবং হাদিসের আলোকে নিন্মে আলোচনা করা হল।

মৃত্যু:

পরকালের সূচনা, যা সকল প্রাণীর জন্য অনিবার্য। মৃত্যুর পর থেকেই আখিরাতের ধাপ গুলো শুরু হয়ে যায়।
মহান আল্লাহ্তায়ালা বলেনঃ
অর্থঃ “প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর ‘অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী। “
সূরা আল-ইমরান আয়াত: ১৮৫

কবরের জীবন ( আলমে বারযাখ ):

মৃত্যুর পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত কবরে অতিবাহিত জীবন, যা প্রথম পরীক্ষা। এখানে কবর দ্বারা উদ্দেশ হচ্ছে ’’আলামুল বারযাখ’’। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, অর্থাৎ- ’’পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তারা বারযাখে থাকবে।’’ (সূরাহ্ আল মু’মিনূন ২৩: ১০০) আর বারযাখ হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝের এক পৃথিবী। এখানে কবর দ্বারা মৃত্যু বরণকারী লাশকে দাফন করার গর্ত উদ্দেশ্য নয়। কেননা, অনেক মৃত ব্যক্তি আছে। যেমন, পানিতে ডুবে যে মৃত্যুবরণ করেছে অথবা আগুনে পুড়ে অথবা প্রাণী তাকে খেয়ে ফেলেছে এগুলোকে দাফন করা হয় না অথচ এদেরকেও শাস্তি দেয়া হয় এবং নি’আমাতও দান করা হয়। এখানেإثبات عذاب القبر বলে শুধুমাত্র শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে দু’টি কারণে। এক- গুরুত্বারোপ করা। দুই- শাস্তি যাদেরকে দেয়া হবে সেই কাফির বেঈমানদের সংখ্যা বেশী। অপর এক বর্ণনায় আছে, নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’’ইউসাব্বিতুল্লা-হুল্লাযীনা আ-মানূ বিল ক্বওলিস্ সা-বিতি’’- এ আয়াত কবরের ’আযাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কবরে মৃতকে জিজ্ঞেস করা হয়, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব মহান আল্লাহ তা’আলা। আর আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অন্য হাদিসে বর্ণিত : আখিরাতের প্রথম ধাপ হচ্ছে কবর আর কবরের আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ -এর জন্য আমরা নিজেকে কতটুকু প্রস্তুত করেছি? উছমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কবরের পাশে দাঁড়াতেন,তখন এমন কাঁদতেন যে, তাঁর দাঁড়ি ভিজে যেত।একদিন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো,আপনি জাহান্নামের এবং জান্নাতের কথা স্মরণ করেন,অথচ কাঁদেন না,আর কবর দেখলেই কাদেন,ব্যাপার কি?তিনি বললেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,পরকালের(বিপদজনক) স্থান সমূহের মধ্যে কবর হচ্ছে প্রথম।যদি কেউ সেখানে মুক্তি পেয়ে যায়,তাহলে তার পরের সব স্থানগুলি সহজ হয়ে যাবে।আর যদি কবরে মুক্তি লাভ করতে না পারে তাহলে পরের সব স্থানগুলি আরও কঠিন ও জটিল হয়ে যাবে।অতঃপর তিনি বললেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাও বলেছেন যে, ‘আমি এমন কোন ভয়াবহ স্থান দেখিনি, যা কবরের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।’
মিশকাত সহিহ হাদিসঃ ১২৫ , মুসলিম সহিহ হাদিসঃ ৭১১১ হাদিস একাডেমী, ২৮৭১ আন্তঃ

Update Running .....................

Leave a Reply