Skip to content

নামাজের নিষিদ্ধ সময়, ইসলামের বিধান?

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

নামাজের নিষিদ্ধ সময়, ইসলামের বিধান?

আসসালামু আলাইকুম, ইমানের পর ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্পূর্ণ আমল হল সালাত বা নামাজ। নামাজ ইসলামের প্রাণ। মুমিন এবং কাফেরদের মাঝে বড় পার্থক্য হল নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়াও নফল নামাজ পড়ার বিধান ইসলামী শরিয়তে রয়েছে।

তিনটি সময় নামাজ বা সালাত আদায় করার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে  যেমন –

  • সূর্যোদয় ।
  • সূর্যাস্ত ।
  • যখন সূর্য তার সর্বোচ্চ স্থানে থাকে ।

নোটঃ এই বিষয়বস্তুটিতে যে হাদিস গ্রন্থের ( যেমনঃ বোখারী শরীফ,আবু দাউদ শরীফ ইত্যাদি ), হাদিস গুলোর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে , এই হাদিস গ্রন্থ্য গুলো অনুবাদ এবং সংকলন করা হয়েছে, ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক ।

সূর্যোদয়ের সময় নামাজ নিষিদ্ধ ?

এটি শুরু হয়, যখন সূর্যের প্রথম অংশ পূর্ব দিগন্তে উদিত হতে দেখা যায়;

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

হাদিসে বর্ণিত …….
আব্দুল আযীয ইব্ন আবদুল্লাহ (র.)….. আবু সায়ীদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , আমি রাসূলুল্লাহ (স.) কে বলতে শুনেছি যে , ফজরের পর সূর্য উদিত হয়ে (একটু) উপরে না উঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন সালাত নেই।

(সহীহ বোখারী, হাদিস নং – ৫৫৯)

যদি কারো ফজরের সুন্নাত বাদ পড়ে তবে সে কখন পড়বে?

উছমান ইবনে আবু শায়বা (র)…. কায়েস ইবনে আমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন , রাসুলুল্লাহ (স) দেখতে পান যে , এক ব্যক্তি ফজরের ফরয নামাজ আদায়ের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করছে। মহানবী (স) বলেন : ফজরের নামাজ দুই রাকাত। তখন তিনি বললেন , আমি ইতিপূর্বে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করতে পারিনি , তা এখন আদায় করছি। তার কথায় রাসুল্লুল্লাহ (স) নীরব থাকেন।

(সহীহ আবু দাউদ, হাদিস নং – ১২৬৭, )

 

এটি শেষ হয়, যখন সম্পূর্ণ  সূর্যটি দৃশ্যমান হয়। এমনও বলা হয় যে, এই সময়টি সূর্য একটি বর্শা সমান উচ্চতায় উঠার সময় পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী।

আজকাল, এই সময়টি সূর্যোদয় শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১২ মিনিটের মতো বিবেচনা করা হয়, তবে নিরাপদ থাকার জন্য, এই সময়টি প্রায় ১৫ -২০ মিনিট পর্যন্ত বিবেচনা করা হয় । দয়া করে এই সময়টি অতিক্রম না করার যথাসাদ্ধ চেষ্টা করবেন । 

সূর্যাস্তের সময় নামাজ নিষিদ্ধ ?

এটা শুরু হয়- যখন সূর্য পশ্চিম দিগন্ত স্পর্শ করে। এমনও বলা হয় যে, এই সময়টি সূর্যটি পুরোপুরি বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত।

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

হাদিসে বর্ণিত …….
আবু নুমান (র.) ……. ইব্ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , আমি আমার সঙ্গীদের যে ভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছি সে ভাবেই আমি সালাত আদায় করি। সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে সালাতের ইচ্ছা করা ব্যতীত রাতে বা দিনে যে কোন সময় কেউ সালাত আদায় করতে চাইলে আমি নিষেধ করি না।

(সহীহ বোখারী, হাদিস নং – ৫৬২)

যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকআত নামায পেয়েছে

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে , রাসূলুল্লাহ (স) বলেনঃ যে ব্যক্তি সূর্য উঠার পুর্বে ফজরের এক রাকাত (ফরয নামাজ) পেল সে ফজরের নামাজ পেল। আর যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত পেল সেও আসরের নামাজ পেল।

(সহীহ তিরমিযী হাদিস নং – ১৮৬, ইবনু মাজাহ – ৬৭০, ৬৯৯), বুখারী ও মুসলিম।

এ অনুচ্ছেদে আয়িশাহ (রা:) হতে বর্ণিত হাদিসও রয়েছে। আবু ঈসা বলেন : আবু হুরায়রা (রা:) এর হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম শাফিঈ , আহমদ , ইসহাক ও আমাদের সাথীরা এ হাদিস কে তাদের দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে হাদিসে অর্পিত এ সুবিধা শুধু তারাই পাবে যাদের অজুহাত রয়েছে। যেমন কেউ ঘুমিয়ে ছিল এবং এমন সময় জেগেছে যখন সূর্য উঠা বা ডুবার উপক্রম হয়েছে , অথবা নামাযের কথা ভুলে গেছে এবং ঐ সময়ে মনে পড়েছে।

 

এটি শেষ যখন- পুরো সূর্যটি পুরোপুরি ডুবে অদৃশ্য হয়ে যায়।

এই সময়টিও, সূর্যাস্তের পূর্বে প্রায় ১২ মিনিট বিবেচনা করা হয়, তবে নিরাপদ থাকার জন্য  এই সময়টি প্রায় ১৫ থেকে ২০  মিনিটের মধ্যে বিবেচনা করা হয়। 

সূর্য যখন মাথার উপরে থাকে ?

যখন সূর্য তার সর্বোচ্চ স্থানে থাকে বা মাথার উপরে থাকে, এই সময়ে যেকোনো বস্তুর ছায়া সর্বনিম্ন দৈর্ঘের হয়ে থাকে। যখন সূর্যটি ঠিক মাথার উপরে তার শীর্ষ স্থানে অবস্থান করে, এই সময়ে আমাদের ছায়ার দৈর্ঘ্য প্রায় শূন্য হয়ে থাকে। আমাদের এমন সময়ে নামাজ শুরু করা উচিত না, যখন আমাদের নামাজের মধ্যবর্তি সময় এবং এই সময়টি মিলে যেতে পারে।

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

নামাজের নিষিদ্ধ সময়

 

সহীহ হাদিসের বর্ননায় ……………..

ইয়াহয়া ইব্ন ইয়াহয়া (র)…… উলাঈ (র) বলেন, আমি উকবা ইবন আমির জুহানী (রা) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) তিনটি সময়ে সালাত আদায় এবং মৃত ব্যক্তি কে দাফন করতে আমাদেরকে নিষেধ করতেন , সূর্য যখন আলোকজ্জ্বল হয়ে উদয় হতে থাকে পরিষ্কার ভাবে উপরে না উঠা পর্যন্ত। যখন সূর্য ঠিক মধ্যাকাশে থাকে, তখন থেকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হলে, যতক্ষণ যাবৎ সম্পূর্ণ রূপে অস্তিমত না হয়।

 
(সহীহ মুসলিম, হাদিস নং – ১৮০২)

সহীহ হাদিসের বর্ননায় ……………..

আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আদ দাওরাকী (রহঃ) ….. ’আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যুহরের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং মানুষের ছায়া তার সম পরিমান হওয়ায় ও আসরের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের সালাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের সালাতের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধরাত্রি অর্থাৎ- মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের সালাতের সময় শুরু হয় ফাজর বা উষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত। আর সূর্যোদয়ের সময় সালাত আদায় করা বন্ধ রাখবে। কারণ সূর্য শায়তনের দুই শিংয়ের মধ্য দিয়ে উদিত হয়।

( সহীহ মুসলিম: হাদীস নং –  ১২৬৪ )

আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের বিধান অনুযায়ী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বিধিনিষেদ মেনে যথাযথ ভাবে আদায় করার তওফিক দান করুন আমিন।

 

 

 

Share your valuable words..............

Your email address will not be published. Required fields are marked *