Skip to content

রিসালাত কাকে বলে ? রিসালাত এর বিষয়বস্তু কি ? Risalat | Massage

রিসালাত কাকে বলে ? রিসালাতের বিষয়বস্তু কি ?

রিসালাত (Risalah) আরবি শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ ‘বার্তা’, ‘চিঠি’ বা ‘দূত’, আর পারিভাষিকভাবে এর মানে হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর নির্বাচিত নবী ও রাসূলগণের (যেমন: ইব্রাহিম, মুসা, ঈসা, মুহাম্মদ (সাঃ)) মাধ্যমে মানবজাতির কাছে পাঠানো ঐশীবাণী ও নির্দেশনা বা বার্তা বহন করার দায়িত্ব ও প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যা মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এটি ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সকল নবী রাসুল গণ মানুষকে আল্লাহর পরিচয় দিতো। তাওহীদের বাণী প্রচার করতো। এই তাওহীদের বাণী প্রচারের কাজই হচ্ছে রিসালাত।
মহান আল্লাহতায়ালা বলেন:
অর্থঃ “আমি তোমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছি সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে; আর এমন কোন জাতি নেই যার কাছে সতর্ককারী আসেনি।”
সুরা ফাতির আয়াত: ২৪
মহান আল্লাহতায়ালা বলেন:
অর্থঃ ” আর যখন তাদের নিকট কোন নিদর্শন আসে, তারা বলে, আমরা কখনই ঈমান আনব না, যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূলদেরকে যা দেয়া হয়েছে আমাদেরকে তার অনুরূপ দেয়া হয়। আল্লাহ ভালো জানেন, তিনি কোথায় তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন। যারা অপরাধ করেছে, অচিরেই তাদেরকে আক্রান্ত করবে আল্লাহর নিকট লাঞ্ছনা ও কঠোর আযাব, কারণ তারা চক্রান্ত করত। “
সুরা আল-আনাম আয়াত: ১২৪
মহান আল্লাহতায়ালা বলেন:
অর্থঃ ” ওহে বস্ত্র আবৃত (ব্যক্তি)! , উঠ, অতঃপর সতর্ক কর। ,আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।, আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর। ,আর অপবিত্রতা বর্জন কর। “
সুরা আল-মুদ্দাসসির আয়াত: ১-৫
মহান আল্লাহতায়ালা বলেন:
অর্থঃ ” হে নবী, আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে।, আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী ও আলোকদীপ্ত প্রদীপ হিসেবে। “
সুরা আল-আহযাব আয়াত: ৪৫-৪৬
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন সর্বকালের সর্বযুগের সকল মানব জাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শের চাবিকাঠি । আল্লাহ্ তাঁকে এমন আদর্শ দিয়ে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছেন যে তাঁর আদর্শই হচ্ছে আল্লাহর আদর্শ। যারাই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শে আদর্শিত হবে তারাই আল্লাহর কাছে কৃতকার্য হবে। কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বান্দা হতে পারবেনা যতক্ষননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শে আদর্শিত হবে বা উনার আদর্শ ধারণ করবে।
মহান আল্লাহতায়ালা অন্য আরেকটি আয়াতে বলেন:
অর্থঃ ” অবশ্যই তোমাদের জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। “
সুরা আল-আহযাব আয়াত: ২১
মহান আল্লাহতায়ালা অন্য আরেকটি আয়াতে বলেন:
অর্থঃ ” বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। “
সুরা আল-ইমরান আয়াত: ৩১

রিসালাতের মূল বিষয়গুলো:

আল্লাহ্‌ এক, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—এই মৌলিক বিশ্বাস মানুষের কাছে তুলে ধরা।
রাসূল হলেন তিনি, যিনি নতুন শরীয়ত বা আইন নিয়ে আসেন; আর নবী হলেন যিনি পূর্বের রাসূলের শরীয়ত অনুসরণ করেন।
আল্লাহ্‌র প্রেরিত কিতাব (যেমন: কুরআন) ও সুন্নাহর মাধ্যমে জীবনযাপনের সঠিক নিয়মকানুন, নৈতিকতা ও শরিয়াহ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
মৃত্যুর পর জীবন, বিচার দিবস ও আখিরাতের (পরকাল) ধারণা সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা এবং সে অনুযায়ী আমল করতে উদ্বুদ্ধ করা।
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ অন্যান্য ইবাদত ও সৎকাজের নিয়ম শেখানো।
পথহারা মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং মানবজাতির কল্যাণ নিশ্চিত করা।
রিসালাতে বিশ্বাস মানে আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী-রাসূল এবং তাঁদের আনীত সকল বার্তা (কুরআন, সুন্নাহ) সত্য বলে মেনে নেওয়া।

রিসালাতের মূল বিষয়গুলো:

পৃথিবীতে প্রথমে মানুষ আসার পর থেকে সবাই এক আল্লাহ্‌র ইবাদত করতো, এবং আল্লাহ কে জানত। পরবর্তীতে সময়ের সাথে সাথে মানুষ আল্লাহ্‌কে ভুলে যেতে থাকলো, এবং সমাজে বিভিন্ন রকম এর পাপ কাজ খারাপ কাজ করতে শুরু করল। সেইসাথে আল্লাহ্‌র পরিবর্তে বিভিন্ন উপাস্য তৈরি করতে লাগলো এবং পৃথিবীতে অরাজকতা সৃষ্টি করতে লাগলো। যা আল্লাহ্‌র তাওহীদের বিপরীত হতে লাগল । মানুষ যাতে আল্লাহ্‌কে ভুলে না যায় আল্লাহ তায়ালার আদেশ গুলো যেন মেনে চলে । তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে উপাস্য গ্রহণ না করে বা তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক না করে তার জন্য যুগে যুগে আল্লাহর বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে নবী রাসুলদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যদি আল্লাহ্ নবী রাসুল প্রেরণ না করতেন তাহলে পৃথিবীতে কেউ আল্লাহ্কে চিনতে এবং জানতে পারতো না। সেইসাথে আল্লাহর কোনো বান্দা তাঁর ইবাদত বন্দেগীও করতো না। তাই আল্লাহর আদেশ নিষেধ এবং ইবাদত করার জন্য নবী রাসুলগণ রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেই আমরা আজ আল্লাহ্কে চিনতে এবং জানতে পেরেছি।
Update

Leave a Reply