Skip to content

অপরের ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশের নিয়ম |Rules for entering the house, Permission

অপরের ঘরে বা বাড়িতে প্রবেশের নিয়ম ইসলামের বিধান

আসসালামু আলাইকুম, ইসলাম ধর্ম একটি পরিপূর্ন ধর্ম। ইসলাম ধর্ম মানুষকে বিশেষ শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে যা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই বিভিন্ন কাজে নানা নিয়ম-কানূন মেনে চলার প্রয়োজন হয়। তেমনি কারো বাড়ীতে বা ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসলাম অনুমতির আদব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। আমরা কারও বাসা বা অফিসে অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করে ফেলি যা মোটেও কাম্য নয়। কারও ঘরে প্রবেশ করার আগে সালাম দেওয়া ও নিজের পরিচয় জানানোই ইসলামের শিষ্ট্যাচার।

এই মর্মে মহান-আল্লাহতায়ালা এবং রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তা নিন্মে আলোচনা করা হলঃ

আল-কোরআনের বর্ণনায়ঃ

১। বাড়ি বা ঘরের মাঝে কেউ না থাকলে প্রবেশ করবেন না, পরের বাড়িতে বা ঘরে তার অনুপস্থিতিতে প্রবেশ করলে আপনার প্রতি আপনার মাঝে কুধারণা জন্মাতে পারে। মহান আল্লাহ বলেনঃ

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَدۡخُلُوۡا بُیُوۡتًا غَیۡرَ بُیُوۡتِكُمۡ حَتّٰی تَسۡتَاۡنِسُوۡا وَ تُسَلِّمُوۡا عَلٰۤی اَهۡلِهَا ؕ ذٰلِكُمۡ خَیۡرٌ لَّكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُوۡنَ . فَاِنۡ لَّمۡ تَجِدُوۡا فِیۡهَاۤ اَحَدًا فَلَا تَدۡخُلُوۡهَا حَتّٰی یُؤۡذَنَ لَكُمۡ ۚ وَ اِنۡ قِیۡلَ لَكُمُ ارۡجِعُوۡا فَارۡجِعُوۡا هُوَ اَزۡكٰی لَكُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِیۡمٌ

অর্থঃ হে মুমিনগণ, তোমরা নিজদের গৃহ ছাড়া অন্য কারও গৃহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
অতঃপর যদি তোমরা সেখানে কাউকে না পাও তাহলে তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও’ তাহলে ফিরে যাবে। এটাই তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র। তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত। আল-বায়ান

(সুরা নুর আয়াতঃ ২৭-২৮)

২। তিনটি সময়ে অন্যকারো ঘরে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি চাওয়াঃ
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِنْ قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُمْ مِنَ الظَّهِيرَةِ وَمِنْ بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ وَلَا عَلَيْهِمْ جُنَاحٌ بَعْدَهُنَّ طَوَّافُونَ عَلَيْكُمْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ -وَإِذَا بَلَغَ الْأَطْفَالُ مِنْكُمُ الْحُلُمَ فَلْيَسْتَأْذِنُوا كَمَا اسْتَأْذَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ .

وَ اِذَا بَلَغَ الۡاَطۡفَالُ مِنۡكُمُ الۡحُلُمَ فَلۡیَسۡتَاۡذِنُوۡا كَمَا اسۡتَاۡذَنَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ ؕ كَذٰلِكَ یُبَیِّنُ اللّٰهُ لَكُمۡ اٰیٰتِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیۡمٌ حَكِیۡمٌ

অর্থঃ হে মু’মিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময়ে অনুমতি গ্রহণ করে। ফাজরের সালাতের পূর্বে, দ্বিপ্রহরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখ এবং ইশার সালাতের পর। এই তিন সময় তোমাদের দেহ খোলা রাখার সময়; এই তিন সময় ছাড়া অন্য সময়ে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে তোমাদের জন্য ও তাদের জন্য কোন দোষ নেই; তোমাদের এক জনকে অপর জনের নিকটতো যাতায়াত করতেই হয়। এভাবে আল্লাহ তোমাদের নিকট তাঁর নির্দেশ সুস্পষ্ট রূপে বিবৃত করেন; আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। মুজিবুর রহমান।

তোমাদের শিশুরা যখন বয়োঃপ্রাপ্ত হবে তখন তারা যেন তোমাদের নিকট আসতে অনুমতি নেয়, যেমন তাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা অনুমতি নেয়। এভাবে আল্লাহ তাঁর নির্দেশ খুবই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, কারণ আল্লাহ সর্বজ্ঞ, বড়ই হিকমতওয়ালা। তাইসিরুল।

(সুরা নুর আয়াতঃ ৫৮-৫৯)

৩। কোন মজলিস বা মিটিং এ থাকলে আমীরের বা যে সিনিয়র থাকবে তার নিকট অনুমতি না নিয়ে কোন প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে উঠে যাবেন না। মহান আল্লাহ্তায়ালা বলেনঃ
اِنَّمَا الۡمُؤۡمِنُوۡنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰهِ وَ رَسُوۡلِهٖ وَ اِذَا كَانُوۡا مَعَهٗ عَلٰۤی اَمۡرٍ جَامِعٍ لَّمۡ یَذۡهَبُوۡا حَتّٰی یَسۡتَاۡذِنُوۡهُ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَاۡذِنُوۡنَكَ اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰهِ وَ رَسُوۡلِهٖ ۚ فَاِذَا اسۡتَاۡذَنُوۡكَ لِبَعۡضِ شَاۡنِهِمۡ فَاۡذَنۡ لِّمَنۡ شِئۡتَ مِنۡهُمۡ وَ اسۡتَغۡفِرۡ لَهُمُ اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ
অর্থঃ মুমিন শুধু তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনে এবং তাঁর সাথে কোন সমষ্টিগত কাজে থাকলে অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয় তোমার কাছে যারা অনুমতি চায় তারাই কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনে; সুতরাং কোন প্রয়োজনে তারা তোমার কাছে বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে তোমার যাকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দেবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আল-বায়ান

( সুরা নুর আয়াতঃ ৬২ )

আল-হাদিসের বর্ণনায়ঃ

১। কারো ঘরে বা গেইটে উঁকি মেরে দেখা নিষেদঃ
হুমায়দ (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যাক্তি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে উঁকি মারল। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি চাকু নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে (এ হাদীস) কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)।

( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ৬৪২২,৫৮০৭ ই ফা বা, ৬৮৮৯,৬২৪১ আন্তঃ ৬৮৮৮,৬২৪১ তাওহীদ পাবলিকেশন, ৬৪০৮ আধুনিক প্রকাশনী/ মুসলিম , আহমেদ )

২। কারো বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার সময় দরজা বা গেইটের এক পাশে দাঁড়ানোঃ
হুযাইল (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা এক ব্যক্তি অর্থাৎ সা’দ (রাঃ) এসে রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর ঘরের দরজা বরাবর মুখ করে দাঁড়িয়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ দরজার ডান অথবা বাম দিকে সরে দাঁড়াও। কেননা চোখের দৃষ্টির কারণেই অনুমতি নেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

(আবু দাঊদ সহীহ হাদিসঃ ৫১৭৪ তাহকীককৃত/ বায়হাকী )

৩। অনুমতি চাওয়ার সময় সালাম দেওয়াঃ

কালাদাহ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ) তাকে কিছু দুধ, একটি হরিণ ছানা ও কিছু শসা সহ রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রেরণ করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার উঁচু স্থানে অবস্থান করছিলেন। আমি সালাম না দিয়েই তাঁর নিকট প্রবেশ করলে তিনি বললেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং আসসালামু আলাইকুম বলো। ঘটনাটি ঘটেছিল সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের পর।

( আবু দাঊদ সহীহ হাদিসঃ ৫১৭৬,৫১৭৭ তাহকীককৃত / তিরমিজি সহীহ হাদিসঃ ২৭১০ তাহকীককৃত)

৪। কেউ যদি আপনাকে ডেকে পাঠায় এবং আপনি তার সাথে বাড়ি প্রবেশ করেন, তাহলে পৃথক অনুমতির দরকার নেই। যেহেতু ডেকে পাঠানোটাই আপনার জন্য অনুমতি।

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তিকে ডেকে আনার জন্য কোনো লোক পাঠালে তা তার অনুমতি হিসেবে ধর্তব্য।

( আবু দাঊদ সহীহ হাদিসঃ ৫১৮৯ তাহকীককৃত )

৫। দরজায় হালকা আঘাত করে অনুমতি চাওয়া, বেশি জোরে আঘাত না করাঃ
জাবির (রাঃ) বলেন, আমার পিতার কিছু ঋণ ছিল। এ সম্পর্কে আলোচনা করার জন্য আমি রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলাম এবং দরজায় আঘাত করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কে? আমি বললামঃ আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি আমি, যেন তিনি তা অপছন্দ করলেন।

( বুখারী সহীহ হাদিসঃ ৬২৫০ তাওহীদ পাবলিকেশন, ফাতহুল বারী ১১/৩৮ )

৬। অনুমতি প্রার্থীকে ‘কে এখানে’ এভাবে প্রশ্ন করা হলে ‘আমি’ বলে উত্তর দেয়া মাকরূহঃ

ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ….. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি চাইলাম। তিনি বললেন, “এ কে? আমি বললাম, আমি’। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি! আমি!!

( মুসলিম সহীহ হাদিসঃ ৫৫২৯ হাদিস একাডেমি, ৫৪৫১ ই ফা বা ,৫৪৭৩ ই সেন্টার , ২১৫৫ আন্তঃ )

মহান আল্লাহতায়ালা যেন আমাদের সবাইকে আল-কোরআন এবং সহিহ হাদিসের আলোকে চলার তৌফিক দান করেন আমিন ।

Leave a Reply